ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের কার্যালয় খালি করার জন্য দমকলের দেওয়া নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাই কোর্টের ( Calcutta HighCourt) দ্বারস্থ হল মমতাপন্থী তৃণমূল ( TMC)। সোমবার বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চে বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূলের আইনজীবী। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। শুক্রবার মামলাটির শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

 ৯, ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বহুতলের সপ্তম এবং অষ্টম তলায় রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee) দফতর। সম্প্রতি ওই ভবন থেকে বিলবোর্ড খুলে আনাকে কেন্দ্র করে কলকাতা পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে অভিষেক-অনুগামীদের বচসা বাধে। সেই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ না করায় সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল (TMC)। এরই মধ্যে ভবনের মালিককে নোটিস দেয় দমকল বিভাগ। নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, ভবনের সপ্তম ও অষ্টমতলায় অগ্নিনিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাযথ নেই। ফলে ওই অংশ আপাতত নিরাপদ নয় এবং তা অবিলম্বে খালি করতে হবে। দমকলের নির্দেশের পর মালিকপক্ষও অভিষেকের দফতর খালি করার কথা জানায়। সেই নোটিশকেই এবার হাই কোর্টে ( Calcutta High Court) চ্যালেঞ্জ করেছে মমতাপন্থী  তৃণমূল।

শুনানিতে ( Hearing) বিচারপতি কৃষ্ণ রাও প্রশ্ন তোলেন, অভিষেকরা যেহেতু ওই জায়গার ভাড়াটিয়া, তাঁদের দফতর খালি করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে মালিকপক্ষ কেন আদালতের দ্বারস্থ হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন তিনি। বিচারপতির বক্তব্য, এই ঘটনায় মালিকেরও আদালতে আসা উচিত ছিল।

অন্যদিকে, ওই দফতর অভিষেকেরা (Abhisekh Banerjee) জোর করে দখল করে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেছে মালিকপক্ষ। ভাড়া সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে নিম্ন আদালতেও মামলা করা হয়েছিল। সেই মামলায় ওই জায়গা নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। সোমবার হাইকোর্টে সেই নির্দেশের কথাও তুলে ধরে তৃণমূল। দমকলের নোটিসে আরও বলা হয়েছে, সপ্তম ও অষ্টম তলায় অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম না মানার অভিযোগে মালিকপক্ষ ও ভাড়াটিয়াদের নথিপত্র-সহ হাজির হতে বলা হয়েছিল। ভাড়াটিয়ারা নির্দিষ্ট সময়ে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হলেও মালিকপক্ষ হাজির হয়নি বলে দাবি দমকলের। নথি যাচাইয়ের পর দমকলের দাবি, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার মূল দায়িত্ব মালিকপক্ষের। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট অগ্নিনিরাপত্তা শংসাপত্রের মেয়াদ ২০২৬ সালের ১০ অগস্ট শেষ হয়ে গিয়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। শংসাপত্র পুনর্নবীকরণের সুপারিশ করা হলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণেই সপ্তম ও অষ্টম তলার অংশকে নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করে দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ভবনের বেসমেন্টের ক্ষেত্রেও। দমকলের সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই এবার হাইকোর্টে মামলা করল মমতাপন্থী তৃণমূল।