রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে প্রথম দুর্গাপুজো। আগে থেকেই বিভিন্ন ফতোয়া দিচ্ছিলেন স্বঘোষিত নেতারা। সেই কারণে সবার নজর ছিল মুখ্যমন্ত্রীর পুজো সমন্বয় বৈঠক ঘিরে। সোমবার, মিলনমেলা থেকে দুর্গাপুজোয় নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগের সরকারের ধারা বজায় রেখে পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দিলেন শুভেন্দু। তবে, ১০ হাজার কমিয়ে ১ লক্ষ টাকা করা হল। একই সঙ্গে বড় বাজেটের পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান না নেওয়ার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বিদ্যুতের টাকা লাগবে না। সেই সঙ্গে শুভেন্দু ঘোষণা করেন, এ বছর হবে না বিসর্জনের কার্নিভাল। মহালয়ায় ইডেন গার্ডেন্সে হবে মেগা ড্রোন শো। ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। অষ্টমীতে রাজ্যজুড়ে বন্ধ মদ বিক্রি।
তৃণমূল জমানায় পুজো কমিটিগুলিকে অনুদান দেওয়া শুরু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমবার ২৫ হাজার টাকা করে ক্লাবকে দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অনুদানের পরিমাণ বেড়ে ২০২৫ সালে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছিলে ক্লাবগুলি। পালাবদলের পরেও থাকবে তো পুজোয় সরকারি অনুদান- এই প্রশ্ন ছিল সব মহলে। শুভেন্দুর কথায়, “রাজ্যে ২৫ হাজার দিয়ে শুরু হয়েছিল অনুদান দেওয়া। ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। ভোটে লাভ হয়নি। অনেকেই নির্ভরশীল হয়ে গিয়েছে।“ এদিন সমন্বয় বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, অনুদান বাবদ সব কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। তবে বড় পুজো কমিটিগুলিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বললেন, “বড় বাজেটের কমিটিকে আবেদন, আপনারা আর্থিক সাহায্য নেবেন না। আপনাদের আমি ধন্যবাদ জানাব।” একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের পুজোয় বিদ্যুৎ ও দমকলের কোনও খরচ লাগবে না।
বিগত কয়েক বছর মহালয়ার আগেই পুজোর উদ্বোধন হয়েছে। সেই বিষয়ে এদিন সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহালয়ার আগে কোনও পুজো উদ্বোধন হবে না। বিসর্জনের কার্নিভালও হবে না এবার। তবে, মহালয়ায় ইডেনে মেগা শো-র মাধ্যমে পুজোর উদ্বোধন করা হবে। পর্যটন দফতর ও তথ্য সংস্কৃতি দফতরের যৌথ কর্মসূচি ইডেন গার্ডেন্সে মহালয়ায় মেগা ড্রোন শো থেকে আতশবাজির প্রদর্শনী হবে। ৬টি শহরে দুদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কলকাতায় রোড শো হবে।
২৪ অক্টোবরের মধ্যে বিসর্জনের প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। বিসর্জনে ব্যবহার করা যাবে না ক্রেন। দুর্গাপুজো, বিসর্জনে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আবেদন করেছেন, পুজোর প্রতিমা বা থিম যে পুজোর ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে আঘাত না করে। তবে, আমিষ-নিরামিষ নিয়ে কোনও নির্দেশ তো দূর মন্তব্যও করেননি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
















