রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা ছাড়া যে অন্য কোনও কারণ নেই, তা আরও এক বার প্রমাণ হয়ে গেল দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউয়ে তৃণমূলের সদর দফতরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) ম্যারাথন অভিযানে। সোমবার সকালে হুট করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এক ঝাঁক কর্তা হাজির হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নামে বরাদ্দ ৬১ নম্বর সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাংলোয়, যা দীর্ঘ দিন ধরেই দলের সর্বভারতীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু টানা বারো ঘণ্টার হাঁকডাক আর তল্লাশি-নাটক শেষে তাঁদের ফিরতে হল কার্যত শূন্য হাতেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই কেন্দ্রীয় সংস্থা এই হয়রানি চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

সোমবার সাতসকালে যখন সাউথ অ্যাভিনিউয়ের তৃণমূল কার্যালয়ের কর্মীরা এসে পৌঁছননি, তখনই কার্যত আচমকা সেখানে পৌঁছে যায় ইডির আধিকারিকদের দল। একই সঙ্গে কলকাতার সাংসদ কার্যালয়েও শুরু হয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির গতিবিধি। দিল্লির যে বাংলোর বাইরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি-সহ তৃণমূলের নামফলক স্পষ্ট দৃশ্যমান, সেটিকে নিশানা করে তদন্তকারীদের এই তৎপরতা ঘিরে শুরুতেই তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়। তবে সূত্রের খবর, তল্লাশির মূল পর্ব মিটে গিয়েছিল প্রথম দু’ঘণ্টার মধ্যেই। কিন্তু তার পরেও পুরো কার্যালয় ঘিরে রেখে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্যত উদ্দেশ্যহীন ভাবে সময় কাটিয়েছেন। বেলা পেরিয়ে সন্ধে, এমনকি রাত দশটা পর্যন্ত এই অহেতুক নাটুকে তল্লাশি টানা টেনে নিয়ে যাওয়া হয় রাজনৈতিক নাটক তৈরির লক্ষ্যেই— এমনটাই অভিযোগ জোড়াফুল শিবিরের। জানা গিয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তল্লাশি করে শেষ পর্যন্ত একটি পুরনো বাতিল ফোন, একটি পুরনো আইপ্যাড আর নির্বাচন কমিশনের সর্বজনীন ভোটার তালিকার নথি রাখা কিছু হার্ডডিস্ক ছাড়া কিছুই খুঁজে পায়নি ইডি। 
তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, দিল্লি ও বাংলায় একযোগে এই অভিযান বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের নগ্ন রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই জ্বলন্ত প্রমাণ। তদন্তের কোনও বাস্তবিক কারণ ছাড়া কেবল রাজনৈতিক চাপে ফেলে মুখ বন্ধ রাখতেই যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সাউথ অ্যাভিনিউয়ের পার্টি অফিসে এই প্রহসনের মঞ্চ সাজানো হয়েছিল, তা রাত নামতেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।