'এক রাজ্য এক শিক্ষাব্যবস্থা নীতি' চালু করতে বৃহস্পতিবার বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে (Assembly Session) 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬' পেশ করল রাজ্য। বাম-তৃণমূল-আইএসএফের বিরোধিতার জবাব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশোধনী বিলের যৌক্তিকতা ও লক্ষ্য স্পষ্ট করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)। সাফ জানালেন, 'বদলি সরকারি চাকরির অঙ্গ। যাঁদের নতুন নিয়ম পছন্দ হবে না তাঁরা চাকরি ছেড়ে যেতে পারেন।'
এদিন শুরু থেকেই চাঁচাছোলা ভাষায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী মনোভাবাপন্ন অধ্যাপক ও শিক্ষার্থীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, 'JUTA সদস্যরা কবে কোথায় কী ভূমিকা নিয়েছেন তার সব তথ্য সরকারের কাছে রয়েছে। যাঁদের এত জ্ঞান এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি, তাঁদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে পাঠাবো যাতে সেগুলো সবল হয়ে ওঠে।' যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক সংগঠনগুলিকে কার্যত নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বিলের আসল গুরুত্ব শুরুতে বিরোধী ও অধ্যাপক সংগঠন বুঝতে পারেনি। এখন সরকারের কঠোর অবস্থানের আঁচ করতে পেরে চিড়বিড় করা শুরু হয়েছে। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’-এ গত ২০১৭ সালের আইনে যুক্ত হতে চলেছে নতুন ১৪এ ধারা। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশাসনিক প্রয়োজন হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মীকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করতে পারবেন চ্যান্সেলর। এই পয়েন্ট নিয়েই শুরু থেকে প্রশ্ন তোলেন বিরোধীরা। বদলি অধ্যাপক ও অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পারস্পরিক সম্মতিতে হবে নাকি সরকার একপাক্ষিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবে তা নিয়ে বিভ্রান্তির কথা উল্লেখ করলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের স্বার্থে সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করা নয়। গবেষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পাশাপাশি দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও চাঙ্গা করা হবে।শুভেন্দুর অধিকারীর কথায়, ''এক শিক্ষানীতিতে রাজ্য চলবে। তাই শিক্ষাবিদদের যুক্ত করেছি। সমস্ত স্তরের ছাত্ররা সরকারি সাহায্য নিয়ে উচ্চশিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হবে সেটা চাই। তাঁরা সমাজের দায়িত্ব পালন করুক।''
বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনের শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বামেদের কড়া আক্রমণ করেন। স্পষ্ট বুঝিয়ে দেন, দেশবিরোধী কোনও স্লোগান বা কার্যকলাপ বরদাস্ত করা হবে না। সেক্ষেত্রে গান্ধীজীর ভাষায় নয়, নেতাজির ভাষাতেই জবাব দেওয়া হবে। নতুন শিক্ষাবিল সংক্রান্ত নিয়মকানুন নিয়ে ক্ষুব্ধ অধ্যাপকদের উদ্দেশ্যে তীব্র কটাক্ষ করে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের মন্তব্য, 'যাঁদের এই সরকারি চাকরিতে এত অসুবিধে তাঁরা চাকরি ছেড়ে দিন। কাঁধে ঝোলা ব্যাগ নিয়ে পাকাপাকি হোলটাইমার হয়ে যান। নিউমার্কেটে চাঁদা তুলতে নেমে পড়ুন।' এদিন বিধানসভায় মোস্তাফিজুর ও নওশাদসহ একাধিক বিরোধী বিধায়ক অভিযোগ করেন এই বিলের মাধ্যমে শিক্ষা ক্ষেত্রে গৈরিকরণের চেষ্টা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা বলেন এই শব্দবন্ধে তাঁর আপত্তি আছে। পূর্ববর্তী সরকার অনিলায়ন, মমতায়ন করলেও এই সরকার সেই পথে হাঁটবে না।
















