দুই হাতে তালি দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যেতেন গুপি-বাঘা। ঘড়ি পরে অদৃশ্য হয়ে যেতেন ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’! কিংবা পি সি সরকারের সেই বিখ্যাত ‘গিলি গিলি ছু’ তেও ভ্যানিশ হয়েছে কত কিছুই। তা বলে জামা পরে ভ্যানিশ? আজ্ঞে হ্যাঁ। এ বার শার্ট পরে অদৃশ্য হওয়ার পালা। হাতা দু’খানা গলিয়ে নিয়ে বোতাম আটকে নিলেই ‘ভ্যানিশ’! আশপাশের কোনও সিসিক্যামেরা আপনার টিকির দেখাও পাবে না। এমনই এক আশ্চর্য অভিনব পোশাক বানিয়ে ফেলেছেন জার্মানির পোশাকশিল্পী সিমন ওয়েকার্ট।
আরও পড়ুন: ভুয়ো PMO পরিচয়ে মোদির সভায় প্রবেশের চেষ্টা, বন্দুক- সহ পাকড়াও ২
প্রথম নজরে দেখলে আর দশটা সাধারণ জামার চেয়ে আলাদা কিছু মনে হবে না। উজ্জ্বল সবুজ, কমলা আর গোলাপির আঁকিঁবুকি কাটা একটি হাফ-হাতা জংলা প্রিন্টের শার্ট। দেখতে এই জামা ফ্যাশনের দিক থেকে খুব একটা আহামরি বলা চলে না। তবে ফ্যাশন নয়, এর মূল আকর্ষণ লুকিয়ে আছে ওই নানা রঙের প্রিন্টে, যা আপনাকে করে দেবে ভ্যানিশ।
তবে এই জামা আপনাকে মানুষের চোখ থেকে আড়াল করবে না, বরং ফাঁকি দেবে আধুনিক প্রযুক্তির সবচেয়ে তীক্ষ্ণ নজরদারি—এআই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরাকে। সম্প্রতি জার্মানির বার্লিনের বিখ্যাত ডিজাইনার সিমন ওয়েকার্টের তৈরি একটি বিশেষ শার্ট নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে।
পোশাকটির কার্যকারিতা বোঝাতে সিমন একটি লাইভ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, ওই জংলা শার্ট পরা এক যুবক সিসিটিভির একদম সামনে দিয়ে যাতায়াত করছেন, অথচ আধুনিক এআই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা তাঁকে ‘মানুষ’ বা ‘পার্সন’ হিসেবে চিনতেই পারছে না! সিসিটিভির মনিটরে তাঁর আশপাশের অন্যান্য মানুষদের ওপর সবুজ ডিজিটাল ফ্রেম তৈরি করে চিহ্নিত করা হলেও, ওই বিশেষ শার্ট পরা যুবকের ক্ষেত্রে ক্যামেরা সম্পূর্ণ ‘অন্ধ’। সামনে দিয়ে অনবরত হাঁটাচলা করা সত্ত্বেও যন্ত্রের ডিজিটাল চোখ তাঁকে মানুষ বলে ধরতে পারছে না। মানুষ চোখ মেলে তাঁকে দেখতে পেলেও প্রযুক্তি কিন্তু তাঁকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাচ্ছে। সিমন তাই এই পোশাকের নাম দিয়েছেন ‘ডিজিটাল ক্যামোফ্লাজ’।
কিন্তু কেন এমন পোশাক তৈরি করলেন সিমন? শোনা যাচ্ছে এর নেপথ্যে রয়েছে জার্মানির বার্লিন শহরের প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্ত। নগর কর্তৃপক্ষ ঠিক করেছে, সমস্ত সরকারি জায়গায় জনগণের কাজকর্মে নজরদারি চালানোর জন্য এআই চালিত সিসিক্যামেরা বসানো হবে। সিমন দেখতে চেয়েছিলেন নগর প্রশাসনের ওই পরিকল্পনাকে ফাঁকি দেওয়া যায় কি না।
সিমন জানিয়েছেন, তাঁকে ওই শার্ট বানাতে সাহায্য করেছে এআই প্রযু্ক্তিই। কৃত্রিম মেধার সাহায্য নিয়ে ওই শার্ট তৈরি করে বিভিন্ন ফরম্যাটে পরীক্ষা করে সফল হওয়ার পরই ডিজিটাল ক্যামোফ্লাজ শার্ট লঞ্চ করেন সিমন। তবে এই প্রযুক্তি যদি অপরাধীদের হাতে পড়ে, তবে কি বিপদের ঝুঁকি বাড়বে? বিশেষজ্ঞ ও শিল্পীর মতে, এতে ভয়ের কিছু নেই। কারণ ক্যামেরা প্রযুক্তি ব্যক্তিকে মানুষ হিসেবে চিহ্নিত করতে না পারলেও স্ক্রিনে মানুষকে খালি চোখে স্পষ্ট দেখা যাবেই। সুতরাং খালি চোখে ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করলে কোনও অপরাধীরই পার পাবে না।
















