একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্রোহ হয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু- র (WHO) পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (Saima Wazed)। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) কন্যা WHO-র দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান ছিলেন। ২০২৫ সাল থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উঠতে শুরু করে। এমন কথাও শোনা যায় যে, মায়ের প্রভাব খাটিয়েই তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বড় দায়িত্ব পেয়েছিলেন। 'হু' অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়েছিল সায়মাকে। তখন থেকেই জল্পনা বাড়ছিল যে হয়তো হাসিনা কন্যা পদত্যাগ করতে পারেন। এবার সেটাই সত্যি হল। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়মা।

সায়মা একসময় সূচনা ফাউন্ডেশন নামে এক সংস্থার প্রধান ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ২৮ মিলিয়ন ডলার অনুদান হিসেবে জোগাড় করেছিলেন। শুধু তাই নয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদে থাকাকালীন নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন বলেও হাসিনা কন্যার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ সামনে এসেছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলির ভোটে WHO-র বিশ্বস্তরের পদে নির্বাচিত হন সায়মা। পরের বছর ওটা ২০২৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক অধিকর্তার পদে নিযুক্ত করা হয় তাঁকে। কাজের মেয়াদ ছিল আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কন্যার বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশের তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। হু জানায়, চিন সফরে গিয়ে আর্থিক দুর্নীতি করেছেন সায়মা। পাশাপাশি বাংলাদেশে অবৈধভাবে জমি দখল থেকে শুরু করে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে সায়মার বিরুদ্ধে। এরপরই গত বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সায়মাকে ছুটিতে পাঠায়। 

হাসিনা কন্যা নিজের পদত্যাগপত্রে দুর্নীতির সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করে গেব্রিয়াসাসের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি উল্লেখ করেছেন নিজের অর্থাভাবের কথাও। তিনি লেখেন, 'যেহেতু আমার দায়িত্ব পালনে বিরত করে রাখা হয়েছে তাই হু - এর উপর থেকে আমি আস্থা ও বিশ্বাস হারিয়েছি। প্রায় এক বছর বেতন বা সাম্মানিক ছাড়া ছুটিতে রয়েছে আমার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয়। এই অবস্থায় সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'