কোথাও রান্নার জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, কোথাও আবার খাবারের গুণগত মান এতটাই খারাপ যে কোনওভাবেই তা পাতে দেওয়ার যোগ্য নয় - শহরের বুকে রমরমিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া একের পর এক নামি মিষ্টির দোকান, হোটেল, রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে গত দু'দিনে কমপক্ষে ৬৫ টি প্রতিষ্ঠানের ফুড লাইসেন্স বাতিল করেছে পুরসভা। মঙ্গলবার ৪০ টি খাদ্য বিপণির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের পর বুধবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আরও ২৫ টি নাম।
ফুড সেফটি বিভাগের (Food Safety Department) তরফ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী খাদ্য সুরক্ষা বিধি মেনে প্রয়োজনীয় সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আপাতত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলির ফুড লাইসেন্স বাতিল করা থাকবে। নতুন তালিকায় রয়েছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউয়ের ‘চাং ওয়া’, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের ‘নিউ আলিয়া’ ও ‘আলিশান’ও। খাদ্যসুরক্ষা অভিযান আরও জোরদার করতে গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকান থেকে ১৬১টি নমুনা সংগ্রহ করেছেন পুরসভার আধিকারিকরা। সেগুলো পরীক্ষা করার পর কোথাও কোন ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে আইন মোতাবেক কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
গত কয়েকদিন ধরে দেখা গিয়েছে শহরের নামই মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁতে হানা দিয়ে কোথাও পচা মাংস, কোথাও মেয়াদ উত্তীর্ণ মসলা কোথাও আবার নষ্ট হয়ে যাওয়া মিষ্টি উদ্ধার হয়েছে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। সাধারণ মানুষ কষ্টের পয়সা খরচ করে বড় বড় ব্র্যান্ডের রেস্টুরেন্টে প্রিয়জন পরিবারের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করতে যান এই আশায় যে সেখানে হয়তো ভালো খাবার পাওয়া যাবে। কিন্তু নামি সংস্থাগুলি যেভাবে খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তা দেখে শুধু পুরসভার আধিকারিকরাই নয় ছবি ভিডিও ছড়িয়ে পড়াতে আমজনতার চক্ষু চড়ক গাছ। বুধবার সন্ধ্যায় নিউ মার্কেটের ‘নিজামস’ বন্ধ ছিল। যদিও সেখানে জানানো হয়েছে সংস্কারের কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত। ‘নিউ আলিয়া’-র মূল দরজাও অর্ধেক বন্ধ ছিল। ‘চাং ওয়া’-য় পানশালা খোলা থাকলেও রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। তবে রান্নাঘরের বৈদ্যুতিক সংক্রান্ত কাজের জন্য রেস্তরাঁ বন্ধ বলে দাবি করা হয়েছে। পুরসভা জানিয়েছে রান্নাঘরের পরিবেশ নিয়েও সমস্যা ধরা পড়েছিল। কিন্তু বাইরের নোটিশে যে সবের উল্লেখ ছিল না। লাইসেন্স বাতিল হওয়া সত্ত্বেও বুধবার সন্ধ্যায় ‘আলিশান’ খোলা ছিল। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়তেই রাতে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুরসভা জানিয়েছে, যে কারণে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে, সেই ত্রুটি সংশোধন করার সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলিকে দেওয়া হচ্ছে। ফের খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকেরা পরিদর্শন এবং অডিট করবেন। সব কিছু নিয়মমাফিক থাকলে লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করা হবে।শুধু শহর কলকাতাতেই নয়, জেলায় জেলায় বিভিন্ন খাদ্যবিপণিতেও পরিদর্শন ও নজরদারি চালানো হচ্ছে প্রশাসনের তরফ থেকে।
















