শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) হুগলির শ্রীরামপুরে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) সভা করার করার অনুমতি দেওয়া হল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) তরফে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ বলে জি টি রোডে দীর্ঘ সময় ধরে মিছিল করা যাবে না। পরিবর্তে মাহেশ জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন স্নান পিড়ির মাঠে সর্বাধিক ২ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে দুপুর ১টা থেকে দুপুর ৩টে পর্যন্ত শব্দবিধি মেনে সভা করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনও উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি না হয়। জি টি রোডে যান চলাচলে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেই দিকে নজর রাখার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করতে হবে। 

বিধানসভা নির্বাচনের তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের পর থেকে নানাভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গৃহবন্দি করে রাখার চেষ্টা চলছে বলে খোদ সুপ্রিমো নিজেই অভিযোগ করেছিলেন। তবে একুশে জুলাই এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন এবার তিনি জেলা সফর শুরু করবেন। সেইমত আগামী শুক্রবার হুগলির শ্রীরামপুরে (Srirampore , Hooghly) মমতার একটি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে শ্রীরামপুর কোর্ট চত্বরে প্রতিবাদ মিছিল করার জন্য অনুমতি চাওয়া হলেও পুলিশ জানায়, জিটি রোডে যান চলাচলের উপর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এই অনুমতি দেওয়া যাবে না। পরবর্তীতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় মমতাপন্থী ঘাসফুল শিবির। আজ তার শুনানিতে মিছিলের অনুমতি না দিলেও শর্তসাপেক্ষে সভা করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। প্রথমে আদালতের তরফে তৃণমূলকে দিল্লি রোডে সভা করার জন্য বলা হয়। কিন্তু রাজ্যের প্রধান বিরোধীদল তা মানতে চাইনি। এরপর বিচারপতি মাহেশ জগন্নাথ মন্দির সংলগ্ন স্নান পিঁড়ির মাঠে সভা করার অনুমতি দিয়ে জানিয়েছেন, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগে এরকম উস্কানিমূলক কোনও মন্তব্য সভামঞ্চ থেকে করা যাবে না। সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা বৃহস্পতিবার রাত আটটার মধ্যে পুলিশের কাছে জমা করতে হবে। 

এদিন বিচারপতি বলেন, ' সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহর কলকাতায় যে দুটি কর্মসূচি করেছেন সেখানে আদালতের নির্দেশ সঠিকভাবে মানা হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসকে সব নিয়ম মেনে সভা করতে হবে।' উল্লেখ্য, পালাবদলের পর কলকাতার বাইরে তৃণমূল সুপ্রিমোর এটা প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচি। স্বাভাবিকভাবেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংসদীয় এলাকায় মমতার কর্মসূচির দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।