বুধবার সকালে কলকাতা হাইকোর্টের ৪৫ তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগে (Ravindra Vithalrao Ghuge)। আদালতের এক নম্বর কক্ষে নতুন প্রধান বিচারপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করান পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি (RN Ravi)। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari), বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু-সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী-বিধায়করা।
হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ইতিমধ্যেই অবসর গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই স্থায়ী বিচারপতি নিয়োগের দাবি করা হচ্ছিল। সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বে অগাস্ট মাসে এই সংক্রান্ত সুপারিশ করার পর কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (President Draupadi Murmu) সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতায় প্রধান বিচারপতির (CJI Surya Kant) সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়োগের সম্মতি দিয়েছেন। এদিনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও এই বিষয়টির উল্লেখ করা হয়। রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি রবীন্দ্র বিঠলরাও ঘুগের (Ravindra Vithalrao Ghuge) শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হাইকোর্টের প্রাক্তন ও বর্তমান বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, 'কলকাতা হাইকোর্ট সবচেয়ে পুরনো। আমার আগে স্বনামধন্যদের পা পড়েছে এই হাইকোর্টে। বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্র বসুর মাটির এই জমি স্বাধীনতার জন্ম দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের আইনজীবীদের স্বাগত জানাই। আমার বাবাকে স্মরণ করছি আজ। চার মাইল হেঁটে ল কলেজ যেতে হত এই নোবেল প্রফেশনে আসার জন্য। আমার স্ত্রী এই পুরো জার্নিতে পাশে ছিলেন। বাইসাইকেল থেকে এই চেয়ারে আসা যথেষ্ট কঠিন। তরুণ প্রজন্মকে আমি বলতে চাই কঠিন পথ পেরোতে হবে। এটা শুধু আমার জার্নি নয়। এতে আমার পুরো পরিবারের হাত রয়েছে। তাঁদের সাইলেন্ট স্যাক্রিফাইস। মাকে আজ খুব মনে পড়ছে। দেশের মধ্যে এই হাইকোর্টের বার খুব পরিচিত। তাই আমার বাকি সহযোদ্ধা বিচারপতিদেরও বলছি, কাজ সহজ করার জন্যই আধুনিক প্রযুক্তি। এই বিষয়টা সম্পর্কে সকলের অবগত থাকা দরকার। আমি এখনও আইনজীবী। আমার দরজা সকলের জন্য খোলা। যে যখন চান আসতে পারেন।' নিজের বক্তব্য শেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাইকোর্টের নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি।
















