যত সময় যাচ্ছে ততই মুড়ি-মুড়কির মতো পেইনকিলার খাবার প্রবণতা বাড়ছে। একটু কোন ইনফেকশন হলেই ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ার মানসিকতা ছোট বড় সব বয়সীদের মধ্যেই। চিকিৎসকরা বলছেন এসবের জেরে হু হু করে বাড়ছে কিডনির সমস্যা। ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD) আটকাতে এবার দেশ জুড়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের (Health Ministry) তরফে ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করা হল।
সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (CDSCO) বলছে, সামান্য গা-হাত-পা ব্যথা হোক কিংবা হালকা জ্বর, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধের দোকান থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা পেইনকিলার কিনে খাওয়ার প্রবণতা ক্রমশই ঊর্ধ্বমুখী। অথচ এই অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে ভয়ংকর বিপদ। নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগস এবং অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের যথেচ্ছ ব্যবহারে কিডনি অকেজো হয়ে পড়ার সম্ভাবনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি 'অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স' (AMR)-এর আশঙ্কাও উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে। মানব দেহের জন্য এই দুটোর কোনওটিই ভালো লক্ষণ নয়। পরিস্থিতি গুরুতর বুঝে এবার CDSCO ফার্মাসিস্ট ও বিক্রেতাদের জন্য কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে 'ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্ট, ১৯৪০' এবং 'ড্রাগস রুলস, ১৯৪৫'-র শিডিউল H ও H1-এর অধীনে থাকা ওষুধগুলি প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত ভাবে ব্যথা নাশক ওষুধ যাতে প্রেসক্রাইব করা না হয় সেদিকে নজর। সমস্যা গুরুতর রোগীর বয়স, ইমিউনিটি, কিডনির অবস্থা, পুরনো রোগের ইতিহাস সবার আগে যাচাই করা বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফ থেকে নির্দেশিকা জারি হয়েছে সেখানে সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনভাবেই ঘন ঘন পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে যাদের কিডনি জনিত সমস্যা রয়েছে তাঁরা এই ধরনের ওষুধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন। সামান্য জ্বর বা গা হাত-পা ব্যথা হলেই অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথার ওষুধের দিকে না দৌড়ে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন মতো ওষুধ খাওয়া বাঞ্ছনীয়। কেন্দ্রের নির্দেশিকা চিকিৎসক ও হাসপাতালের ভূমিকা নির্দিষ্ট করে দিয়ে স্পষ্টভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে যে খুব প্রয়োজন হলে সর্বনিম্ন কার্যকর মাত্রায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য পেইনকিলার প্রেসক্রাইব করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন সেই বিষয়ে আগে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
















