নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ঘিরে দিল্লিতে বাড়ছে উত্তাপ! যন্তর-মন্তরে ঢোকা নিয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র তিন নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং অজিঙ্কা শিন্ডেকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নিল দিল্লি পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ, শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীর কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। বুধবার তাঁদের আদালতে পেশ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে তিহাড় জেলে পাঠানো হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে ব্যারিকেড পেরিয়ে যন্তর-মন্তরের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন CJP-র নেতা-কর্মীরা। অভিযোগ, ব্যারিকেড টপকে এলাকায় প্রবেশ করেন তাঁরা। এরপর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগানও তোলা হয়। ঘটনাস্থল থেকে সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্কা শিন্ডে-সহ কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা অমান্য, শান্তি বজায় রাখার বন্ড ভঙ্গ এবং সরকারি কর্মীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের দাবি, এর আগে শনিবারের একটি বিক্ষোভের ঘটনায় আটক হওয়ার পর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা এক বছরের জন্য শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। CJP-র আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ সমাজমাধ্যমে দাবি করেছেন, পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আটক তিন নেতাকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, রাত প্রায় তিনটে নাগাদ একটি বেসরকারি গাড়িতে তাঁদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার সকালে তাঁদের বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে পেশ করা হতে পারে। সেখান থেকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর আশঙ্কাও রয়েছে। পুলিশের পদক্ষেপকে তিনি স্বেচ্ছাচারী বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি নিয়ে CJP এবং দিল্লি পুলিশের সংঘাত। দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের ১১ অক্টোবরের নির্দেশে যন্তর-মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। বিকল্প হিসেবে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির CBD ময়দানকে বিক্ষোভ ও সমাবেশের স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিহারে মাঝগঙ্গায় নৌকাডুবি, মৃত অন্তত ১৪!
এই মর্মে CJP-র দাবি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র থেকে বিক্ষোভ সরিয়ে দিলে প্রতিবাদের দৃশ্যমানতা কমবে। অন্যদিকে, পুলিশি বিধিনিষেধ অমান্য করে নির্ধারিত এলাকায় প্রবেশের অভিযোগেই এই পদক্ষেপ বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। প্রসঙ্গত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে CJP এবং বিরোধী দলগুলির প্রতিবাদ চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে অনিয়ম হয়েছে। যন্তর-মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া, SIR নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ এবং CJP নেতাদের আটক ও গ্রেফতার—এই তিনটি বিষয় ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে।















