পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয়ে ফোন, অর্থপাচারের অভিযোগ তুলে গ্রেফতারির হুমকি! এই কৌশলেই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের এক অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীর কাছ থেকে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৯ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠল। ঘটনায় ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীদের অনুমান, এই চক্রের সঙ্গে কম্বোডিয়া-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাইবার অপরাধীদের যোগাযোগ রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৬৯ বছরের প্রাক্তন ডিরেক্টর প্রদীপ কুমার দাসকে গত ১৪ অগস্ট ফোন করে প্রতারকেরা। নিজেদের দিল্লি পুলিশ, অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS) এবং জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার (NIA) আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়ে দাবি করা হয়, অর্থপাচারের মামলায় তাঁর আধার কার্ডের তথ্যের অপব্যবহার হয়েছে। এরপর ব্যাঙ্কের অর্থ যাচাইয়ের অজুহাতে তাঁকে তিনটি অ্যাকাউন্টে RTGS-এর মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁর উপর নজরদারি চালানোর অভিযোগও উঠেছে। তদন্তে দিল্লির দ্বারকা থেকে প্রথমে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের মোবাইলে Telegram-এর কথোপকথন এবং ‘SMS Tools’ নামে একটি সন্দেহজনক অ্যাপের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। পুলিশের অনুমান, OTP-সহ গুরুত্বপূর্ণ SMS বিদেশে পাঠানোর কাজে অ্যাপটি ব্যবহৃত হত। প্রতারণার অর্থের লেনদেনে ৫.৫ শতাংশ কমিশন ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেওয়া হত বলেও অভিযোগ।

এই মামলায় আরও ছয়জন গ্রেফতার হয়েছেন। তদন্তে অন্ধ্রপ্রদেশ, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক প্রতারণার ঘটনার সূত্র মিলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরে বিনিয়োগের নামে ২১ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, টাকা এমআর ট্রেডার্সের অ্যাকাউন্টে জমা পড়লেও প্রায় ৫ লক্ষ টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসূত্র এবং অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।