জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কেন্দ্রের উপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছেন বিরোধীরা। আরও কীভাবে চাপ বাড়ানো যায় তারই কৌশল স্থির করতে মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর বাড়িতে চা চক্রে সমাবেত হন  'ইন্ডিয়া' (I.N.D.I.A.) জোটের নেতা এবং ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।  

লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বলেন, দেশের গণতন্ত্র বাঁচানোর এই আন্দোলন থামবে না, বরং আরও গতিশীল হবে। তবে উৎসবের মরশুমে আপাতত কিছুদিনের জন‍্য বিরোধী আন্দোলন স্থগিত রাখা হবে। দশেরার পর ফের বিরোধীরা মিলিত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন, বলেই আজ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুন: গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে সামনে রেখে এবার কামতাপুরের দাবিতে সরব KPP

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে জোটের বিক্ষোভকে 'বিরাট সাফল্য' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং একই সঙ্গে মোদি সরকার ও ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেছেন।

রাহুল গান্ধী এদিন বলেন, "আমি 'ইন্ডিয়া' (INDIA) জোটের নেতা, বিরোধী দলীয় সাংসদ, ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের চা-চক্রে আমার বাসভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। গণতন্ত্র রক্ষার এই গণ-আন্দোলনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ—এবং এই আন্দোলন অবিরাম চলতে থাকবে। চা-চক্রের পর আমরা সবাই একত্রিত হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরব। সমস্ত প্রতিবাদ আসলে একটাই।"

তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিক ঘোষ সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, "বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার দেশের মুক্ত ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ ধ্বংস করে দিচ্ছেন। জ্ঞানেশ কুমার পদে থাকা পর্যন্ত দেশে স্বচ্ছ নির্বাচন অসম্ভব।" হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, বাংলা ও বিহারে বড় মাপের ‘ভোট চুরি’ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারিত করে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু না করা পর্যন্ত বিরোধী জোটের এই যৌথ সংগ্রাম থামবে না।

এরপরেই এনসিপি-এসসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে বলেন, "সংবিধান বিপন্ন 'ভোট চুরি'-র বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই চলবে।"

সরকারের 'ভোট চুরি' জনগণের সামনে ফাঁস হয়ে গিয়েছে বলে সোচ্চার হলেন তেজস্বী যাদব।

সিপিআইএম-এর এম এ বেবি বললেন, "আমরা আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব; সরকার প্রথমে 'ভোট চুরি' করেছিল আর এখন তারা 'প্রতিবাদস্থল চুরি' করল।"

কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার এবং হিমাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুও চাচক্রে যোগ দিয়েছিলেন। 

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং কংগ্রেস সংসদীয় দলের প্রধান সোনিয়া গান্ধী ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা কে সি ভেনুগোপাল, জয়রাম রমেশ, শশী থারুর এবং পবন খেরা।

আরও পড়ুন: লাদাখ ভারতের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’: চিনের দাবি উড়িয়ে সাফ জানাল বিদেশ মন্ত্রক

আরজেডি-র মনোজ ঝা, মহুয়া মাজি (জেএমএম), হরেন্দর মালিক, আনন্দ ভাদৌরিয়া এবং মহিবুল্লাহ নাদভি (এসপি), ডি রাজা এবং পি সন্দোষ কুমার (সিপিআই), আইএসএ প্রধান নেহা বোরা, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (সিপিআই-এমএল) এবং মাহুয়া মৈত্রও (টিএমসি) এই চা চক্রে যোগ দিয়েছিলেন।

বিরোধী দলগুলি, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ এবং বিতর্কিত ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) কার্যক্রমের তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছে; অভিযোগ রয়েছে , ভোট চুরি হয়েছে, এই কার্যক্রমের ফলে দেশের ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।