উৎসবের আবহে সেজে উঠেছে শহর। দুর্গাপুজোর দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে সাজসজ্জার আকর্ষণ। তবে এ বার শুধুই চোখধাঁধানো আয়োজন নয়, পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও তুলে ধরছে অ্যাক্রোপলিস মল (Acropolis Mall)। সবুজ গাছপালা, মাটির পাত্র এবং প্রকৃতির নানা উপাদানে সেজে উঠেছে মলের অন্দরমহল। এ বার তাদের পুজোর মূল ভাবনা ‘গ্রিন পুজো’ বা সবুজ পুজো (Green Pujo)।
অ্যাক্রোপলিস মলের মূল অংশকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে এক সবুজ অরণ্যের আদলে। চারদিকে নানা প্রজাতির গাছপালা, শিকড়, জড়িয়ে থাকা ডালপালা এবং সবুজের সমারোহের মাঝে বিরাজ করছেন মা দুর্গা। লাল-নীল রঙের ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত দেবী দুর্গার প্রতিমা সবুজের পটভূমিতে হয়ে উঠেছে আরও আকর্ষণীয়। সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে মাটির পাত্র, পোড়ামাটির নানা উপকরণ এবং বিভিন্ন ধরনের গাছ। গ্রামবাংলার মাটির গন্ধ ও প্রকৃতির চিরচেনা রূপ যেন ধরা পড়েছে এই আয়োজনে। গাছের ডাল, ঝুলন্ত শিকড় এবং সবুজ পাতার সুনিপুণ বিন্যাস মলের ব্যস্ত পরিবেশের মধ্যেই তৈরি করেছে এক ছোট্ট অরণ্যের আবহ। ফলে কেনাকাটা করতে আসা দর্শনার্থীরা পুজোর আনন্দের পাশাপাশি উপভোগ করতে পারছেন প্রকৃতির এক ভিন্ন রূপ।
এই সাজসজ্জার মূল উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মলকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা নয়। উৎসবের সঙ্গে পরিবেশ রক্ষার ভাবনাকেও যুক্ত করতে চায় মল কর্তৃপক্ষ। সবুজ গাছপালা ও মাটির উপকরণের ব্যবহার মনে করিয়ে দিচ্ছে, প্রকৃতি এবং মানুষের জীবন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা যে সকলেরই দায়িত্ব, সেই বার্তাই তুলে ধরছে এ বারের আয়োজন।
এই প্রসঙ্গে মার্লিন গ্রুপের (Merlin Group) রিটেইল অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের কর্পোরেট জেনারেল ম্যানেজার শুভদীপ বসু (Subhadip Basu) বলেন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে আরও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে সবুজ ভবন নির্মাণের ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাক্রোপলিস মলে আমরা সর্বদা পরিবেশ-বান্ধব কার্যপদ্ধতির ওপর জোর দিয়েছি। তাই এ বছর দুর্গাপুজোর উদ্যাপনেও সেই পরিবেশবান্ধব ভাবনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শক্তির প্রতীক মা দুর্গাকে (Maa Durga) সবুজ প্রকৃতির আবহে উপস্থাপন করার মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও জীবনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। পোড়ামাটির পাত্র, সবুজ গাছপালা এবং অরণ্য-অনুপ্রাণিত সাজসজ্জার মাধ্যমে মানুষকে প্রকৃতির আরও কাছাকাছি নিয়ে আসাই মূল লক্ষ্য। এখান থেকেই স্পষ্ট যে, নতুন প্রজন্মের কাছে পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে চায় মল কর্তৃপক্ষ।
ইতিমধ্যেই পুজোর কেনাকাটা করতে আসা বহু মানুষ এই অভিনব সাজসজ্জা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। ঐতিহ্য, শিল্পকলা এবং পরিবেশ সচেতনতার এমন মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের কাছে পুজোর অভিজ্ঞতাকে করে তুলছে অন্য রকম। সব মিলিয়ে, অ্যাক্রোপলিস মলের এ বারের ‘গ্রিন পুজো’ শুধুমাত্র সাজসজ্জার অভিনবত্বে সীমাবদ্ধ নয়। উৎসবের আনন্দের মধ্য দিয়েও যে প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সেই ভাবনাকেই সামনে আনছে এই উদ্যোগ।















