দুই মেরুর দুই নেতা। এ বলে আমায় দ্যাখ, ও বলে আমায় দ্যাখ। এবার ফের তাঁরা এক জায়গায়। প্রায় ১১ বছর পর আমেরিকায় পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। তাঁকে স্বাগত জানতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। দুই দেশের প্রেসিডেন্ট এক জায়গায় আসতেই আমেরিকা এবং চিনের শুল্ক যুদ্ধে বিরতি ঘোষণা হল।
মার্কিন সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেছেন, আমেরিকা (America) ও চিন (China) তাদের বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ আরও দু'মাসের জন্য বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছে। জিনপিং আমেরিকায় পা রাখতেই এই ঘোষণা। একইসঙ্গে দুই দেশের মধ্যে শুল্ক নিয়ন্ত্রণ ও কিছু রফতানিতে রাশ টানতে গত বছর যে চুক্তি হয়েছিল, তার জন্য ১০ জানুয়ারির ডেডলাইনও ঘোষণা করেন বেসেন্ট। চিনের তরফে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য না করা হলেও, বেসেন্ট জানিয়েছেন, “আমি জানি না এর থেকে বড় চুক্তি আর কিছু হতে পারে কি না।”
বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতেই চিনের প্রেসিডেন্টের আমেরিকা সফর। ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। আলোচনায় কৃত্রিম মেধা থেকে তাইওয়ান যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য থেকে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গও। হোয়াইট হাউসেই এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা। নৈশভোজেরও আয়োজন রয়েছে। নৈশভোজে উপস্থিত থাকার কথা টেসলা-প্রধান এলন মাস্ক, অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, অ্যাপল-কর্তা টিম কুক এবং এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াং-এর। গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে একটি সামিটে অংশ নিতে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। সেই সময়ই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে চড়া ট্যারিফ আপাতত বন্ধ রাখা হবে। বিরল মৃত্তিকা খনিজের রফতানি নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং মার্কিন বন্দরে চিনর তৈরি ও মালিকানাধীন জাহাজে বিপুল শুল্ক চাপানো হবে না।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা, হুড়মুড়িয়ে পড়ল সেনসেক্স-নিফটি
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা-চিন বৈঠক সফল হলেও দু’দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্য, বিরল খনিজ-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারে ওয়াশিংটন। এর ফলে আমেরিকার কাছে বেজিঙের গুরুত্ব বাড়বে। অন্যদিকে, চিন যদি বিরল খনিজের নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী দেশ হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে, সেক্ষেত্রে বেজিঙের বিকল্প হিসাবে ভারতের প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু ‘ড্রাগনে’র কাছ থেকে সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটনের কাছে ভারতের গুরুত্ব আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই এই প্রেক্ষেপটে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প-জিনপিঙের বৈঠকের ফলাফলের কী হয়, সেদিকে নজর রাখছে নয়াদিল্লি।
















