মধ্যপ্রাচ্যে (Middle East) ফের বাড়ছে যুদ্ধের (War) আশঙ্কা। আর তার আঁচ এসে পড়েছে ভারতের শেয়ার বাজারেও (Share Market)। আমেরিকা (USA) ও ইরানের (Iran) মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে বৃহস্পতিবার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ল বাজার। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। তারই প্রতিফলন দেখা গেল সেনসেক্স (Sensex) ও নিফটির (Nifty) সূচকে।
আরও পড়ুন: শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রকাশ্যে বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা বম্বে হাই কোর্টের
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত সেনসেক্স পড়েছে ১২৩২ পয়েন্ট। দিনের শুরুতে ৭৪,২৭২.৪০ পয়েন্টে থাকা সূচক নেমে দাঁড়িয়েছে ৭২,৫৫১.৪০ পয়েন্টে। একই ছবি নিফটির ক্ষেত্রেও। ২৩,২২১.৮০ পয়েন্ট দিয়ে লেনদেন শুরু করেছিল নিফটি। দুপুর আড়াইটে নাগাদ ৩৯২ পয়েন্ট হারিয়ে তা নেমে এসেছে ২২,৮২৯ পয়েন্টে।
আরও পড়ুন: প্রচারে বিপুল ব্যয়, বাংলার নির্বাচনে বিজেপির খরচ দেখে চক্ষু চড়কগাছ!
বাজারের এই অস্থিরতার পিছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেই বড় কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মঙ্গলবার রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ভাষণে ইরানকে ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, শান্তিচুক্তির পথে না হাঁটলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে। পাশাপাশি আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেহরান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এর ফলে শুধু কূটনৈতিক পরিস্থিতি নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার নিয়েও নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একের পর এক আন্তর্জাতিক টানাপোড়েনের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। যুদ্ধের আশঙ্কা আরও বাড়লে জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব কতটা পড়বে, তা নিয়েই চিন্তায় বিনিয়োগকারীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তার মধ্যে বড়সড় ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একাংশ বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নিচ্ছেন। সেই বিক্রির চাপই বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ার বাজারের পতনকে আরও তীব্র করেছে। তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি কিছুটা বদলানোর সম্ভাবনাও দেখছেন বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ। শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক রয়েছে। অতিরিক্ত শুল্ক নিয়ে ওই বৈঠক থেকে ইতিবাচক কোনও সিদ্ধান্ত এলে আন্তর্জাতিক বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে নজর এখন যেমন মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, তেমনই তাকিয়ে থাকতে হবে ওয়াশিংটনের বৈঠকের দিকেও।
















