অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) উপকূল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করেছে গভীর নিম্নচাপ। বুধবার রাত ১১টা থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১টার মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীকাকুলাম জেলার কলিঙ্গপটনমের কাছে এই নিম্নচাপ স্থলভাগে ঢোকে (Landfall)। এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং ওড়িশার (Odisha) উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল হয়ে ওঠায় পুরীর (Puri) সমুদ্রসৈকতে লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করেছে প্রশাসন। পর্যটক এবং পুণ্যার্থীদের সমুদ্রে নামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: “রক্ষাকবচ থাকতে পারে না”, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মহুয়ার

মৌসম ভবন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ গভীর নিম্নচাপটি কলিঙ্গপটনম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছিল। যা বিশাখাপত্তনম থেকে তার দূরত্ব ছিল প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পূর্বে এবং ওড়িশার গোপালপুর থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। স্থলভাগে প্রবেশের সময় উপকূলবর্তী এলাকায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছয়। নিম্নচাপের প্রভাবে পুরীতেও সমুদ্র উত্তাল। তাই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সৈকতজুড়ে লাল পতাকা লাগানো হয়েছে। পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের সমুদ্র থেকে দূরে রাখতে সৈকত পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগাতার মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তার জন্য লাইফগার্ড মোতায়েন রয়েছে। প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্ক করে সমুদ্রসৈকত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের (Weather Department) পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত গভীর নিম্নচাপের প্রভাব বজায় থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে এটি সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আরও দুর্বল হবে নিম্নচাপটি। শুক্রবার পর্যন্ত অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক এলাকাতেও বুধবার সকাল থেকে টানা বৃষ্টি চলছে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো হাওয়া। বিজয়ওয়াড়ায় টানা দু’দিন স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহরের বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডেও। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃহস্পতিবার ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিভারী বৃষ্টির জন্য জারি হয়েছে কমলা সতর্কতাও। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) উপকূলের মৎস্যজীবীদের শুক্রবার পর্যন্ত সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমতে পারে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।