মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) কন্যা তথা নয়ডার জেলাশাসক মেধা রূপমকে (Medha Roopam) বড় স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। আকৃতি চৌধুরীকে (Akriti Chaudhary) বেআইনি ভাবে আটক করার অভিযোগে মেধার বেতন থেকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে নির্দেশ এলাহাবাদ হাই কোর্ট (Allahabad High Court) দিয়েছিল, বুধবার সেই নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল শীর্ষ আদালত।

আরও পড়ুন: কেন ১৯ বছর আগের অভিযোগে গ্রেফতার? প্রশ্ন হাই কোর্টের, আপাতত স্বস্তিতে মিলন

বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মা এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে এ দিন এই মামলার শুনানি হয়। এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে পৃথক ভাবে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিলেন মেধা রূপম এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার। প্রায় ২০ মিনিট দু'পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয় শীর্ষ আদালত।

ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরে নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে। সেই সময় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক বাঙালি কন্যা আকৃতি চৌধুরীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে আটক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন মেধা রূপম। এরপর প্রায় পাঁচ মাস বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকতে হয় আকৃতিকে।

আরও পড়ুন: Asian Games: সতীর্থকে হয়রানির অভিযোগ থেকে প্রস্তুতির অভাব, রুপো জিতেই জবাব রোশিবিনার

পরে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। গত ২ সেপ্টেম্বর আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের ধারা বাতিলের নির্দেশ দেয় এলাহাবাদ হাই কোর্ট। ৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশ্যে আসে সেই রায়ের প্রতিলিপি। সেখানে নয়ডার জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলে বিচারপতি অতুল শ্রীধরন ও বিচারপতি অচল সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ। হাই কোর্টের বক্তব্য ছিল, আকৃতির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইন প্রয়োগের পিছনে "দৃষ্টান্ত স্থাপনের" মানসিকতা কাজ করেছিল। আদালত মেধার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে জানায়, এর ফলে আকৃতির মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

এর পাশাপাশি আকৃতিকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। সেই টাকা মেধা রূপম এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আধিকারিকদের বেতন থেকে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেছিল হাই কোর্ট। বিচারপতিদের বক্তব্য ছিল, আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের মূল দায়বদ্ধতা সংবিধানের প্রতি। রাজনৈতিক প্রশাসনের প্রতি নয়। এমন কোনও আচরণ তাঁদের করা উচিত নয়, যাতে তাঁরা "ব্রিটিশ আমলের দমনপীড়নের বাহক"-এর মতো হয়ে ওঠেন।

রায়ে জর্জ অরওয়েলের বিখ্যাত উপন্যাস ‘১৯৮৪’-এর প্রসঙ্গও টেনে আনে আদালত। উত্তরপ্রদেশের আমলারা নিজেদের কাজের ধরন না বদলালে রাজ্য ক্রমশ "সম্পূর্ণ জীবনগ্রাসী রাষ্ট্রে" পরিণত হতে পারে বলেও পর্যবেক্ষণ করেছিল দুই বিচারপতির বেঞ্চ। এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান মেধা রূপম ও উত্তরপ্রদেশ সরকার। বুধবার শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, কোনও ব্যক্তিকে আটক করার প্রক্রিয়ায় যদি প্রশাসনের একাধিক স্তরের আধিকারিক যুক্ত থাকেন, তা হলে শুধুমাত্র জেলাশাসককেই কী ভাবে আলাদা করে দায়ী করা যায়?

এই প্রশ্নের পরই দু'পক্ষের বক্তব্য শুনে এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আপাতত মেধা রূপমের বেতন থেকে ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না।