নন্দীগ্রাম (Nandigram) উপনির্বাচনের আগে জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan) বড়সড় স্বস্তি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। একের পর এক পুরনো মামলায় তাঁকে আদালতে হাজির করানো এবং নতুন করে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক মহলে। সেই আবহেই বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিল, খেজুরি থানার মামলায় মিলনের যে ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে, আপাতত তা কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি ১২ অক্টোবর পর্যন্ত অন্য কোনও মামলায় তাঁকে নতুন করে গ্রেফতারও করা যাবে না।

আরও পড়ুন: নিউটাউনে আদানির হাসপাতালে গরিবদের জন্য বিনামূল্যে ১০০০ শয্যা! বাংলার ঐতিহাসিক দিন, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

মামলাটি শুনতে গিয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের উদ্দেশে বলেন, মিলনকে ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ, ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। তার আগে ১৯ সেপ্টেম্বর আদালতে নতুন কোনও মামলায় গ্রেফতার না করার মৌখিক আশ্বাস দেওয়ার পরেও কীভাবে ফের তাঁকে অন্য একটি মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট করা হল, তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।

আরও পড়ুন: নির্বাচন কমিশনের ‘বিরোধ’ নিয়ে সরব বিরোধীরা, CEC জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি

ঘটনার সূত্রপাত নন্দীগ্রাম থানার একটি পুরনো মামলা থেকে। ১৮ সেপ্টেম্বর ওই মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর জেল হেফাজত হয়। সেই অবস্থাতেই খেজুরি থানার বহু পুরনো একটি মামলায় বুধবার তাঁকে কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানেই তাঁকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম থানার মামলাতেও তাঁর জেল হেফাজতের মেয়াদ রয়েছে। হলদিয়া আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে ওই মামলায় জেলে থাকতে হবে। বুধবার আদালত থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মিলন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের সময়কার খেজুরির দু’টি মামলায় একাধিক ব্যক্তির নাম রয়েছে। সেই মামলাগুলির এত বছর পর শুধুমাত্র তাঁকেই কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। প্রায় ১৯-২০ বছর আগের মামলাকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপের কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এই বিষয়েই চলে দীর্ঘ শুনানি। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত খেজুরির মামলায় মিলনের শ্যোন অ্যারেস্ট কার্যকর না করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন কোনও মামলায় তাঁকে গ্রেফতার না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।