রাজ্যের উপনির্বাচনে খাম প্রতীক নিয়ে দড়ি টানাটানি পৌঁছেছে কলকাতা হাই কোর্টে। আর সেই মামলায় নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) তীব্র ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court)। আদালতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের একক বেঞ্চে কমিশনকে প্রশ্ন করে, “আপনারা সব সময় এমন ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন নেন? বিচারব্যবস্থাকে চিমটি কাটার জন্যই কি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন?“

৬ অক্টোবর রাজ্যের দুটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন (By-Election)। তার আগে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে গোলমাল ফ্রিজ করেছে কমিশন। মমতা তৃণমূলকে ফুটবল খেলোয়াড় আর ঋত শিবিরের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’কে খাম প্রতীক দিয়েছে। আর সেটা নিয়েই সমস্যা। কারণ গত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে খাম প্রতীকেই লড়েছিল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (ISF)। ফলে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। 

এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের (Justice Krishna Rao) একক বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল। আইএসএফ-এর হয়ে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikas Ranjan Bhattacharya) সওয়ালে বলেন, “কমিশন সব দলের জন্যই খাম চিহ্ন ফ্রিজ করতে পারত। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হত না।” কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পান্ডের দাবি, “ফ্রি সিম্বল হিসেবে ২০২১ ও ২০২৪ সালে তারা ব্যবহার করেছেন। এটা তাদের চয়েস।”

এর পরেই কমিশনকে নিশানা করে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা সব সময় এমন ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন কেন? বিচারব্যবস্থাকে খোঁচা দেওয়ার জন্যেই কি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন? “ বিচারপতি বলেন, “১৮৩ টি চিহ্ন আছে। যেই নির্বাচন শুরু হয় আপনারা সিদ্ধান্ত নেন আর সব রাজনৈতিক দলগুলি আদালতে চলে আসে।” 

তীব্র ভর্ৎসনা করে বিচারপতি রাও বলেন, “অন্য দলের মতো কেন আপনারা উপনির্বাচনে এটা ফ্রিজ রাখলেন না? কমিশনের উচিৎ নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা। যে প্রতীক একটি দল মাত্র চার মাস আগে ব্যবহার করেছিল, সেটা বদলে গেল? এখন রুল আইন দেখাচ্ছেন!”    

গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যকে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, “অন্য দলের প্রতীক খাম আপনারাই বা চাইলেন কেন?” বিশ্বরূপ বলেন, “আমরা তিনটি চিহ্ন দিয়েছিলাম। আমাদের চিহ্ন ফ্রিজ করে দেওয়া হয়।” প্রতীক নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি কেন? শুক্রবার সেই উত্তর জানাতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।