তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও জোড়াফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ করার নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে কমিশনের কাছে নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির সম্ভাব্য সময়সীমা জানতে চাইল দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, দুই পক্ষকে নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশের যথেষ্ট সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনেরও সেই তথ্য খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রেজিনগর থানার সামনে ধর্না হুমায়ুনের

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার বেঞ্চে হয় এদিনের শুনানি। আর সেই শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ কমিশনের উদ্দেশে জানতে চায়, এমন একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব কি না, যার মধ্যে দুই পক্ষ নিজেদের বক্তব্য ও প্রমাণ পেশ করতে পারবে এবং একই সঙ্গে বিষয়টি অযথা দীর্ঘায়িতও হবে না। অর্থাৎ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে উভয় পক্ষকে ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালতের বক্তব্য, শুধু দুই পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করলেই হবে না। সেই বক্তব্য এবং পেশ করা প্রমাণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতেও পর্যাপ্ত সময় থাকা প্রয়োজন। তাই গোটা প্রক্রিয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের দিকেই রয়েছে আদালতের মূল নজর। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ সোমবার।


মমতা পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস এবং ঋতব্রত শিবিরের প্রতীক নিয়ে বিতর্কের জেরেই হস্তক্ষেপ করে নির্বাচন কমিশন। ১৭ সেপ্টেম্বর কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ঘাসফুল’ প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। এর পর ১৮ সেপ্টেম্বর আসন্ন উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দুই গোষ্ঠীকে অন্তর্বর্তী ভাবে পৃথক নাম ও প্রতীক দেয় কমিশন। মমতাপন্থী তৃণমূলের  নাম হয় ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক দেওয়া হয় ফুটবল খেলোয়াড়। ঋতব্রত শিবিরকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং খাম প্রতীক দেওয়া হয়।

 আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন রয়েছে। কমিশনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার ফলে দুই গোষ্ঠীকেই নতুন নাম ও প্রতীকে নির্বাচনে নামতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতেই কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। সোমবার মামলাটি দ্রুত তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দেয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ।