পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দলীয় কর্মীদের সংযত থাকার বার্তা দিয়ে আসছিলেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। এ বার একই সুর শোনা গেল আরএসএস-এর অন্দরেও। তবে কোনও রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে নয়, সতর্কবার্তা সরাসরি সঙ্ঘের নিজস্ব স্বয়ংসেবকদের জন্য। রাজ্যে বিজেপি জিতেছে বলেই স্বয়ংসেবকেরা যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন বা ধরে না নেন যে সব সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে— বুধবার নিউ টাউনে সঙ্ঘের নতুন দফতর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন আরএসএস-এর সহ-সরকার্যবাহ (সর্বভারতীয় সহকারী সাধারণ সম্পাদক) রামদত্ত চক্রধর। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও স্বয়ংসেবকদের আচরণ, আদর্শ ও দায়বদ্ধতায় যেন কোনও শিথিলতা না আসে, তা নিয়েই কার্যত সতর্ক করলেন সঙ্ঘের শীর্ষ পদাধিকারী।

নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া ২ডি-তে তৈরি হয়েছে আরএসএস-এর নতুন ভবন ‘কেশব স্মৃতি’। সামাজিক কাজের পরিধি ও সংগঠনের আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় মানিকতলার কেশব ভবনে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানসঙ্কুলানের সমস্যা হচ্ছিল। সেই কারণে ২০২৩ সালে নিউ টাউনের এই নতুন ভবনের কাজ শুরু হয়। বুধবার মূলত স্বয়ংসেবক এবং সহযোগী সংগঠনের পদাধিকারীদের উপস্থিতিতে বাস্তুপূজা ও হোমযজ্ঞের মাধ্যমে ভবনটির প্রাথমিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সঙ্ঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলের উপস্থিতিতে এই নতুন দফতরের আনুষ্ঠানিক ‘লোকার্পণ’ হওয়ার কথা।

বুধবারের অনুষ্ঠানে কিছুক্ষণের জন্য উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি নবনির্মিত ভবনে এসে প্রণাম সেরে প্রচারক ও পদাধিকারীদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী কর্মসূচিতে চলে যান। অনুষ্ঠানের শেষ বক্তা হিসেবে বলতে উঠে রামদত্ত প্রয়াত কেশবরাও দীক্ষিতের স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতির প্রসঙ্গটিও টেনে আনেন। তিনি বলেন, যখন এই ভবনের ভূমিপূজন হয়েছিল, তখন ভাবা যায়নি যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কখনও এখানে আসবেন। কিন্তু আজ তিনি এসেছেন, অর্থাৎ পরিস্থিতি অনুকূল হয়েছে। এর পরেই সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে এই পরিস্থিতিতেই দায়িত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে।

স্বয়ংসেবকদের উদ্দেশে সহ-সরকার্যবাহের স্পষ্ট মন্তব্য, অনেকে ভাবছেন বিজেপি ক্ষমতায় আসায় তপস্যা সফল হয়েছে বা সব সমস্যা মিটে গিয়েছে। কিন্তু প্রতিকূলতা কোনও বড় সমস্যা নয়, সমস্যা আসলে বাড়ে অনুকূলতাতেই। রাস্তা ঢালু হলেই দুর্ঘটনা বেশি ঘটে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বিজেপি সরকারে এলেই সঙ্ঘের লক্ষ্যপূরণ হয় না। বিজেপির চেয়ে সঙ্ঘের সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। তাঁর কথায়, সমাজ সঙ্ঘ ও স্বয়ংসেবকদের আচরণ লক্ষ্য করে, বিজেপিকে নয়। তাই স্বয়ংসেবকদের নিজস্ব ‘স্বয়ংসেবকত্ব’ ধরে রেখে অবিচল থাকতে হবে।