বেঙ্গল সাফারি পার্কে (Bengal Safari Park) পরপর বন্যপ্রাণীর মৃত্যু (Animals Death) ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ। গত তিন মাসে মৃত্যু হয়েছে সাতটি প্রাণীর। মৃতদের তালিকায় রয়েছে স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণ, পুরুষ সিংহ, চশমা বাঁদর-সহ একাধিক বন্যপ্রাণী। চলতি বছরের প্রথম ছ’মাসে ২০টি প্রাণীর মৃত্যুর পর ফের এই ঘটনায় পার্কের চিকিৎসা ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। যদিও গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ পার্ক কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ঋতব্রতর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ডিজিকে চিঠি রাজ্যের, তদন্তের খুঁটিনাটি জানাতে আর্জি কুণালের

বেঙ্গল সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট সাতটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে গত ৬ জুলাই একটি কৃষ্ণসার হরিণের জন্মও হয়েছিল। তবে নতুন প্রাণের আগমনের পাশাপাশি একের পর এক প্রাণীর মৃত্যু ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।

 প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ জুলাই একটি স্ত্রী কৃষ্ণসার হরিণের মৃত্যু হয়। এর দু’দিন পর, ১৮ জুলাই একই দিনে মৃত্যু হয় একটি পুরুষ সিংহ এবং একটি স্ত্রী চশমা বাঁদরের। এরপর ২২ জুলাই একটি পুরুষ বুনো কুকুরের মৃত্যু হয়। ২৭ জুলাই প্রাণ হারায় একটি পুরুষ আর্গাস ফিজ্যান্ট পাখি। জুলাই মাসের পর আগস্টেও প্রাণীদের মৃত্যু অব্যাহত থাকে। গত ৬ আগস্ট একটি পুরুষ হিমালয়ান শকুনের মৃত্যু হয়। এরপর ১৫ আগস্ট মৃত্যু হয় অত্যন্ত বিরল প্রজাতির একটি স্ত্রী স্যাঙ্গাই হরিণের। সব মিলিয়ে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে সাতটি বন্যপ্রাণীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।


উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে বেঙ্গল সাফারি পার্কে ২০টি প্রাণীর মৃত্যু হয়েছিল। বছরের প্রথম ছ’মাসে এতগুলি প্রাণীর মৃত্যুর পরও পরবর্তী তিন মাসে আরও সাতটি প্রাণীর মৃত্যু নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পরপর এই মৃত্যুর ঘটনায় পার্কের চিকিৎসা ব্যবস্থা, প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাস, পরিচর্যা এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশপ্রেমীরা। বেঙ্গল সাফারি পার্কে একের পর এক প্রাণীর মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সলিটারি নেচার অ্যান্ড অ্যানিম্যাল প্রোটেকশনের সম্পাদক কৌস্তভ চৌধুরি। তাঁর বক্তব্য, পার্কে এভাবে ধারাবাহিক প্রাণীর মৃত্যু অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা পরিষেবা, নজরদারি এবং পরিচালন ব্যবস্থার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বছরের প্রথম ছ’মাসে ২০টি প্রাণীর মৃত্যুর পর পার্ক কর্তৃপক্ষের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল। তিনি গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি পার্কের চিকিৎসা পরিকাঠামো পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন। কেন পরপর প্রাণীদের মৃত্যু হচ্ছে? তাদের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় কোনও গাফিলতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পার্ক কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরপর প্রাণীর মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।