রাজ্যে পাঁচ থেকে ছ’টি নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মুকেশ আম্বানীর রিলায়্যান্স গোষ্ঠী। খুব শীঘ্রই তাদের একটি প্রতিনিধিদল এ রাজ্যে আসতে পারে। বুধবার কলকাতার মেলাপ্রাঙ্গণে শিল্পের জন্য জমি বণ্টন অনুষ্ঠানে এই কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, গত সোমবারই মুম্বইয়ে আম্বানীদের বাসভবন ‘অ্যান্টিলিয়া’য় গিয়ে গণেশপুজোয় অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, পরে মুকেশ অম্বানীর সঙ্গে নৈশভোজেও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
বুধবার মেলাপ্রাঙ্গণের অনুষ্ঠানে ৩৩টি শিল্পসংস্থার হাতে শিল্পজমির বরাদ্দপত্র তুলে দেওয়া হয়। সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে পারে এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে তৈরি হতে পারে প্রায় ৬২ হাজার কর্মসংস্থান। রাজ্যে এখন প্রকৃত শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়েছে দাবি করে বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আসার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে শিল্পে তোলাবাজি রুখতে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি জানান, কোথাও কোনও হুমকি বা তোলাবাজির চেষ্টা হলে সরাসরি সরকারকে জানানোর জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রশাসন প্রয়োজনীয় কড়া পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
এ দিন সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা, সৌরবিদ্যুৎ, বৈদ্যুতিক গাড়ি, ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ, ইস্পাত, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্র এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো বিবিধ ক্ষেত্রের জন্য জমি বণ্টন করা হয়। হরিণঘাটা, খড়্গপুর, পানাগড়, রঘুনাথপুর, ফলতা, উলুবেড়িয়া, কল্যাণী, নৈহাটি, কোচবিহার, সল্টলেক এবং অঙ্কুরহাটি-সহ একাধিক শিল্প পার্কের জমি বিলি করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন। সরকারের আশা, দ্রুত জমি পাওয়ার ফলে প্রস্তাবগুলি অবিলম্বে রূপায়িত হবে এবং স্থানীয় স্তরে পরিবহণ, পরিষেবা ও ছোট ব্যবসার পরিধি বাড়বে।
















