যোগীরাজ্যে রক্ষকই ভক্ষক! উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২৩ বছরের এক তরুণীকে ফার্মহাউসে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের (Gang Rape) অভিযোগ উঠল চার নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দুই কর্মী এবং CRPF-এর দুই সদস্য। ঘটনার পর চারজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party
) প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) ‘X’-এ মন্তব্য করেন, “যখন শাসনব্যবস্থাই অপরাধের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, তখন পুলিশবাহিনীও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে।” এরপরেই তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।
আরও পড়ুন: নিউটাউনে আদানি গ্রুপের ২০০০ বেডের হাসপাতালের শিলান্যাস মুখ্যমন্ত্রীর
পুলিশ সূত্রে খবর, হরিয়ানার ফতেহাবাদের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর এক মহিলা যোগাযোগ করেন। তাঁর মাধ্যমে মুজফ্ফরনগরের বাসিন্দা CRPF ইনস্পেক্টর মোহিতের সঙ্গে দেখা করার কথা বলা হয়। আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘুরিয়ে দেখানোর কথা বলে তাঁকে ডাকা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২১ সেপ্টেম্বর সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করে দু’জনে মিরটে যান। সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন রাজস্থানের আলওয়ারের বাসিন্দা CRPF হেড কনস্টেবল লালারাম যাদব। পরেরদিন সন্ধ্যায় গাড়িতে করে তাঁরা তরুণীকে হাসানপুরের দিকে নিয়ে যান। পথে গাড়িতে ওঠেন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমর।
অভিযোগ, এরপর তাঁকে আটরাসি-হাসানপুর রোডের একটি ফার্মহাউসে নিয়ে গিয়ে দুটি ঘর ভাড়া নেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, প্রমোদ নামে এক হেড কনস্টেবল সেখানে খাবার ও মদের ব্যবস্থা করেন। তরুণীর অভিযোগ, ফার্মহাউসে মোহিত, লালারাম যাদব এবং সঞ্জয় তোমর পরপর তাঁকে ধর্ষণ করেন। পরে প্রমোদ ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তরুণী তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর অনলাইনে খুঁজে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর বের করেন ওই তরুণী। বুধবার ভোর প্রায় ৬টা নাগাদ পুলিশকে ফোন করেন তিনি। খবর পেয়ে হাসানপুর ও রাজাবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে এবং চার অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
আমরোহার পুলিশ সুপার লক্ষণ সিং যাদব জানিয়েছেন, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) প্রাসঙ্গিক ধারায় অপহরণ, প্রলোভন দেখানো এবং গণধর্ষণের মামলা দায়ের হয়েছে। চার অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত পুলিশ সাব-ইনস্পেক্টর সঞ্জয় তোমরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি দুই CRPF কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। হাসানপুর কোতওয়ালি থানার ইনচার্জ অমর পাল সিং জানান, যে ফার্মহাউসে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়কের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। ম্যানেজারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ (Uttar Pradesh Police)। ঘটনার অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।















