গোয়ায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR-এর পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে ফের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন কমিশন। একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসাররা (ERO) যোগ্য বলে ছাড়পত্র দেওয়া সত্ত্বেও ৯৭ জন যোগ্য ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়নি। বিষয়টি সামনে আসতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নতুন করে সরব হয়েছে বিরোধীরা। দেখা গিয়েছে, গোয়ার ERO-রা প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করে ওই ৯৭ জনকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য যোগ্য বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত ECINet সফটওয়্যারে আগের বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের সুযোগ না থাকায় সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি। গোয়ার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় গোয়েল সাত দিনের মধ্যে আটবার নির্বাচন কমিশনের কাছে এই বিষয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলেও রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
এমনকি কমিশনের ডেপুটি নির্বাচন কমিশনারও IT বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সেই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু হয়নি বলে অভিযোগ। ২১ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরও ওই ৯৭ জনের নাম তালিকায় পাওয়া যায়নি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেস সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করেছে। দলের অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির প্রিয় জ্ঞানেশ কুমার গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছেন।
কংগ্রেসের আরও বক্তব্য, ভোট দেওয়ার অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলা সেই জ্ঞানেশ কুমারই ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদির নির্দেশে জ্ঞানেশ কুমার গোটা ব্যবস্থাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে 'ভোট চুরি'-র মতো দেশবিরোধী কাজ করছেন।
কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে, "নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে পক্ষপাতদুষ্ঠ ও কলুষিত হয়েছে।" তিনি ফের জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ''Representation of the People Act অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ERO-দের আইনি ক্ষমতা রয়েছে। অথচ গোয়ায় একটি বেআইনি ও কেন্দ্রীয়করণের পদক্ষেপের মাধ্যমে ERO-দের ECINet সফটওয়্যারে প্রবেশাধিকার সীমিত করা হয়েছিল। নতুন করে সামনে আসা প্রতিটি প্রমাণই প্রায় দুই বছর ধরে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যে কথা বলে আসছেন, সেটাই আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে। হরিয়ানা ও মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি এই প্রশ্ন তুলছেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে কলুষিত হয়েছে।''
কংগ্রেস নেতা শশী থারুরও এই নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। জানান, ''এর সঙ্গে ভারতীয় নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টি জড়িত। রাজনৈতিক কারসাজি যথেষ্ট খারাপ, কিন্তু অমানবিক আচরণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের এবং দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া। পদত্যাগ ন্যূনতম দাবি; এই বিপর্যয়কর সফটওয়্যার বাতিল করা এবং এর ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা সংশোধন করা এখন অত্যন্ত জরুরি।''















