ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Election Commssioner) জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে দিল্লির (Delhi) পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mohua Moitra)। বৃহস্পতিবার থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান তিনি। থানা থেকে বেরিয়ে মহুয়া বলেন, “দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় এসে জ্ঞানেশ চোর কুমারের মুখ্য নির্বাচনী কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সর্ব সম্মতিতে কোন বিল পাস করেননি। উনি একজন অপরাধী। অন্যান্য যে দুজন নির্বাচন কমিশনার রয়েছেন সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী তারা লিখিতভাবে বলেছিলেন যে জ্ঞানেশ কুমার যেটা করছে তা বেআইনি এবং অবৈধ। কিন্তু সেটা অগ্রাহ্য করে জ্ঞানেশ কুমার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওনার রক্ষাকবচ থাকতে পারে না।”
আরও পড়ুন: শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রকাশ্যে বাজি পোড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা বম্বে হাই কোর্টের
থানায় অভিযোগ জানানোর পর মহুয়া মূলত তিনটি বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রথমত, নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ফর্ম-৬-এ একটি নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। সেখানে আবেদনকারীর নিজের নাম অথবা তাঁর বাবা-মা কিংবা ঠাকুরদা-ঠাকুমার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। এই প্রশ্নটা কোন নিয়ম না এনে করেছেন।
দ্বিতীয়ত, বাংলায় যে ৩৩ লক্ষ ভোটার আপিল করেছিল যারা বৈধ ভোটার কমিশনারের কাছে আপিল করেছিল। সেটা নিয়ে সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশীকে জানানো হয়নি। তারা এই পুরো বিষয়টা নিয়ে অন্ধকারে ছিলেন। এই প্রসঙ্গে মহুয়া প্রশ্ন তোলেন, ২০২৩ সালে কেন্দ্র সরকারের পাস করেছিল 'আইনি সুরক্ষাকবচ' আইন। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল আইনি সুরক্ষা কেবল কমিশনের যৌথ ও সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠ দুই কমিশনারের লিখিত বিরোধিতা ও নথিভুক্ত মতামতকে অগ্রাহ্য করে সিইসি একা যে সব 'বেআইনি ও ভুয়ো' সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার ক্ষেত্রে কোনও সুরক্ষাকবচ কার্যকর হতে পারে না।
তৃতীয়ত, জ্ঞানেশ কুমার কমিশনের ডিজি (IT) সীমা খান্নাকে সঙ্গে নিয়ে ভোটার তালিকায় কারচুপি করেছেন। বুথ স্তরের কর্মকর্তা (ERO) রা নথিপত্র যাচাই করে যাদের নাম ভোটার হিসেবে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন, তাদের নামই ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই তথ্য এখন প্রকাশ্যে এসেছে। জ্ঞানেশ কুমার যেটা করেছেন সেটা একেবারেই বৈধ নয়।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে আসা একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির বিষয় ছিল ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলা, নাম বাদ দেওয়া, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আবেদন এবং ফর্ম-৬-এ পরিবর্তন-সহ একাধিক বিষয়। কিন্তু সেই দাবিগুলিকে কর্ণপাত না করেই জ্ঞানেশ কুমার নিজে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসতেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভুমিকা নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।
















