বিধানসভা নির্বাচনে না কি প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন- কিন্তু দল টিকিট দেয়নি। ভোটের পরে মা তৃণমূল ছাড়লে, তাঁর হয়ে স্যোশাল মিডিয়া সামলাচ্ছে কাকলি ঘোষদস্তিদারের পুত্র বৈদ্যনাথ ঘোষদস্তিদার। সেখান থেকে সাধারণত বিরোধী শিবিরকে নিশানা করলেও, এবার সেমসাইড গোল করলেন কাকলি-পুত্র। নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে দলবদলু অন্য শিবিরকেই নিশানা করেছেন বৈদ্যনাথ। 

রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতা থেকে চলে যাওয়ার পরেই দল ছেড়েছেন কাকলি ঘোষদস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়-সহ ২০ সাংসদ। নাম লিখেয়েছেন অনামী দল এনসিপিআই-তে। আর বিধানসভায় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাদের সঙ্গে দল ভাঙানোর খেলায় মেতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়েছেন মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, চন্দ্রিমা ভটাচার্যরা। এখন একসময়ে একদলে থাকা কাকলিদের সঙ্গে সখ্যতা বাড়াতে চাইছে ঋত-শিবির। কিন্তু তাঁদের দলে নিতে নারাজ কাকলি- অন্তত এমনটাই ইঙ্গিত বৈদ্যনাথে পোস্ট থেকে। 

কী লিখেছেন কাকলি-পুত্র? 
সরাসরি নাম করে বৈদ্যনাথ নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে লেখেন, “মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম (ববি), অরূপ বিশ্বাস বা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের সঙ্গে কাজ করার কোনও আগ্রহ আমার মায়ের নেই—আমাদের পরিবারের একটি শিক্ষাগত ও পেশাগত পটভূমি রয়েছে।“

আর এই পোস্টের পরেই প্রকাশ্যে দলবদলু শিবিরে ভাঙন। অনেকটা দিল্লি-কলকাতা বিভাজনের মতোই ঋত-শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন কাকলিরা-মত রাজনৈতিক মহলের। কারণ, কেন্দ্রে বিজেপিশাসিত এনডিএ-কে সমর্থন করছে এনসিপিআই। আর এখানে বিজেপি রাজ্য সরকারে অস্থায়ী বিরোধী দলনেতা সেজে বসে আছেন ঋতব্রত। ফলে বিজেপি-র বি টিম, সি টিমের মধ্যে এখন গেরুয়া ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তরজা। 

প্রশ্ন উঠছে, ৪ মের আগে পর্যন্ত এই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ মদন, ফিরহাদ, অরূপ, জ্যোতিপ্রিয়দের সঙ্গেই একদলে থেকে রাজনীতি করেছেন কাকলি। তৃণমূলের টিকিটে ভোটে লড়ে জিতেছেন। বিভিন্ন দাবি-প্রতিবাদ-আন্দোলনে একসঙ্গে রাস্তায় মিছিল করেছেন- তখন মনে হয়নি এঁরা অসৎ-দুর্নীতিবাজ! এখন বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টায় রাজ্যে যাঁরা তথাকথিত বিরোধী তাঁদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে চাইছেন কাকলি। কারণ, বৈদ্যনাথ তাঁর মায়ের হয়েই পোস্ট করেছেন। ফলে সেটা কাকলির সম্মতিতেই হয়েছে বলেই ধরা হচ্ছে। এখন রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, শীর্ষ আদালতে দলত্যাগী আইনের মামলার নিষ্পত্তি হলেই না কি আর অপরিচিতি দলে নয়, সরাসরি বিজেপিতেই নাম লেখাবেন বারাসতের সাংসদ। তাঁর লক্ষ্য কেন্দ্রের মন্ত্রিত্ব! কিন্তু সেই পথে কাঁটা মদন, জ্যোতিপ্রিয়দের মতো জেলখাটা অভিযুক্তরা। সেই কারণের তাঁদের সংস্রব পুরোপুরি মুছতে মরিয়া ঘোষদস্তিদার পরিবার।