উৎসবের মরশুমে এপার বাংলার খাদ্যরসিক বাঙালিদের জন্য এল বড় ধাক্কা। আর মাত্র কয়েকটা দিন পরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো। কিন্তু এ বছর পুজোর আমেজে বড়সড় খামতি থেকে যেতে চলেছে। ওপার বাংলা থেকে কলকাতার বাজারে পদ্মার রুপোলি ইলিশ আসার সম্ভাবনা এবার প্রায় নেই বললেই চলে। উৎসবের মরশুমে ভারতে ইলিশ আমদানির বিশেষ ছাড়পত্র চেয়ে আবেদন করা হলেও, বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এখনও কোনও সবুজ সংকেত বা রপ্তানির ছাড়পত্র মেলেনি।

আরও পড়ুন: বিতর্ক-পদত্যাগের দাবি! চাপের মুখে জেন-জি'দের সঙ্গে জ্ঞানেশের অনুষ্ঠান স্থগিত

বিগত কয়েক বছর ধরে দুর্গাপুজোর আগে বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ‘পুজোর উপহার’ হিসেবে বিশেষ কোটায় ইলিশ আসত। এ বছরও পশ্চিমবঙ্গের ‘ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (Fish Importers Association)-এর সেক্রেটারি সৈয়দ আনোয়ার মকসুদ জানিয়েছেন, মাছ আমদানির অনুমতি চেয়ে গত অগাস্ট মাসে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন জানালেও এখনও পর্যন্ত কোনও অনুমতি পাওয়া যায়নি। মাছ আমদানিকারকদের মতে, এবার পুজোর আগে পদ্মার চেনা স্বাদ ও সুবাস থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত হতে চলেছেন কলকাতার ইলিশপ্রেমীরা।

আরও পড়ুন: নির্বাচন প্রভাবিত করতে এক্সিট পোল সংস্থাকে কয়েক কোটি! ইউটিউবারদের লক্ষাধিক টাকা বিজেপির

২০১৯ সাল থেকে দু’দেশের কূটনৈতিক স্থিতাবস্থার মাধ্যমে ইলিশ রপ্তানিতে ছাড়পত্র মেলে। এরপর থেকে প্রতিবছর পুজোর আগে কলকাতায় উপহার হিসেবে প্রচুর ইলিশ রপ্তানি করে বাংলাদেশ সরকার। গত বছর প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন পদ্মার ইলিশ এসেছিল ভারতে। কিন্তু এবছর সেই স্বাদে বাঙালির ‘ভাঁটা’ পড়তে চলেছে।  

বাণিজ্যিক মহলের একাংশের ধারণা, ইলিশ নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক টানাপড়েনই এই ছাড়পত্র না পাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এ বছর ভারতের গুজরাটের নর্মদা নদী থেকে প্রায় ৫০০ টন ডিম ভর্তি ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই বাংলাদেশ সরকার ভারতের সেই মাছ আমদানির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং ১০৩ জন মাছ আমদানিকারকের ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) বা ছাড়পত্র বাতিল করে দিয়েছে। এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার পরই এপার বাংলায় পদ্মার ইলিশ আসার পথ কার্যত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল।

আরও পড়ুন: বারুইপুর আদালতে সায়নকে ডিম, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হাই কোর্টে

পদ্মার আসল ইলিশের দেখা না মিললে বাঙালির উৎসবের ভুরিভোজ অনেকটাই ফিকে হয়ে যাবে। বাজারে বিকল্প হিসেবে ওড়িশা, দীঘা, মায়ানমার কিংবা গুজরাতের ইলিশ মিললেও, ভোজনরসিকদের মতে পদ্মার ইলিশের স্বাদ ও গন্ধের সাথে অন্য কোনও মাছের তুলনা হয় না। তার ওপর ওপার বাংলার মাছ না আসায় দেশীয় ইলিশের বাজারেও ব্যাপক ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যার ফলে পুজোর দিনগুলিতে রুপোলি শস্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, সপ্তমীর মধ্যাহ্নভোজ হোক বা নবমীর জমজমাট পাত—পদ্মার রুপোলি ইলিশের অনুপস্থিতি এবার আপামর বাঙালির পুজো উদযাপনে একটা বড়সড় অপূর্ণতা রেখে যাবে।