ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে! শনিবার সকাল সকাল টলিউডের এক বিতর্কিত অভিনেতা - কনটেন্ট ক্রিয়েটারের পোস্ট দেখে বাংলা লোকগানের এই অংশটি যেন পরিস্থিতির সঙ্গে যথার্থ হয়ে উঠেছে। পার্ক স্ট্রিটের নামি রেস্তোঁরায় ধর্মের নামে সুড়সুড়ি দেওয়া এবং পরবর্তীতে বিজেপির কাছ থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নেওয়ার তথ্য ফাঁস হয়ে যেতেই এবার সাফাইয়ের নামে কাঁদুনি গাওয়ার চেষ্টা! কার কথা বলা হচ্ছে, সেটা বুঝতে কারোর বাকি নেই। এদিন সাতসকালে নেট প্রভাবী সায়ক চক্রবর্তীর (Sayak Chakraborty) পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য বলছে, বিজেপির থেকে আড়াই লক্ষ টাকা নিয়েছেন বিগ বস বাংলা থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা অভিনেতা। বিষয়টি জানাজানি হতেই ফিরে এসেছে অলি পাবের গোমাংস নাটক প্রসঙ্গ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া সমালোচিত হয়ে এবার হেটার্সদের জবাব দিতে নিজেকে 'নিরপরাধ' প্রমাণ করার মরিয়া চেষ্টা সায়কের। 

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির নিজেদের প্রচারে একাধিক ইউটিউবার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ডিজিটাল মিডিয়াকে লক্ষ লক্ষ টাকা দেওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে কমিশন। তালিকাতে আড়াই লক্ষ টাকা নেওয়া সায়ক চক্রবর্তীর নাম দেখামাত্রই নিন্দার ঝড় সমাজ মাধ্যমে। অলি পাবে গোমাংস নিয়ে সিনক্রিয়েট এবং বিজেপির থেকে টাকা নেওয়া মিলিয়ে দুয়ে দুয়ে চার করতে খুব একটা বেশি সময় লাগেনি আমজনতা থেকে নেটপাড়ার বাসিন্দাদের। নিজেকে বারবার 'হিন্দু ব্রাহ্মণ' বলে উল্লেখ করে পার্কস্ট্রিটের ওয়েটারের উপর অভিনেতা দোষ চাপিয়েছিলেন তাঁর ধর্মভ্রষ্ট করার। এরপরই সায়কের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উস্কানিতে মদত লাগানোর অভিযোগ ওঠে। সেই অভিনেতা ইউটিউবার এবার লম্বা পোস্ট করে দাবি করলেন, বিজেপির থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়ার সঙ্গে অলি পাব কাণ্ডের নাকি কোনও সম্পর্ক নেই। নিজের বক্তব্যের সাপেক্ষে বেশ কিছু যুক্তি দেওয়ার চেষ্টাও করেছেন অভিনেতা। 

সায়ক লেখেন, 'এটা শুধুমাত্র যারা আমাকে ভালোবাসেন, বিশ্বাস করেন তাদের জন্য। অলি পাব রিঅ্যাকশন আমার ইনস্ট্যান্ট, সেটা অন্য দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেখে আমি নিজে সব ডিলিট করেছিলাম। আমি সেটা নিয়ে আর কথাও বলিনি, অলি পাব ভুল স্বীকার করে স্টেটমেন্টও দিয়েছিল। এটার সঙ্গে অন্য কিছুরই কোনও সম্পর্ক নেই। ওটা ঘটনা, রাজনীতি না। আমার মতে সেটা নিয়ে এখনও যারা উস্কাচ্ছে, তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য আছে নিশ্চয়ই, সেটা সরকার দেখবে।’ এখানেই শেষ নয়, অভিনেতা - কনটেন্ট ক্রিয়েটরের দাবি তিনি সৎ পথে টাকা উপার্জন করেছেন তাই হেটার্স কী বলছে, তাতে তিনি বিন্দুমাত্র চিন্তিত নন। অথচ কী আশ্চর্য দেখুন, যাঁদের পাত্তা দিতে নারাজ বলছেন তাঁদের করা সমালোচনার জেরেই লম্বা পোস্ট করতে বাধ্য হলেন তিনি। ভাবা যায়!

বিজেপির থেকে টাকা নেওয়ার প্রসঙ্গে ট্রোলিং শুরু হতেই সায়ক জানালেন, অলি পাবের ঘটনার পর কয়েকটা দল তাঁকে কনটেন্ট বানানোর জন্য অ্যাপ্রচ করেছিল। ওই ঘটনায় বিজেপি এবং সমভাবাপন্ন মানুষ তাঁকে সাপোর্ট করায় তিনি কিছু কনটেন্ট বানিয়েছেন। কী সেটা? অভিনেতা সমাজমাধ্যমে লেখেন, ' SIR নিয়ে কিছু টেকনিক্যাল এক্সপ্ল্যানেশন এবং যুদ্ধের সময় প্রধানমন্ত্রী চুপ থাকার কারণ এবং BJP campaign এর কাজ শেষ হয় নতুন CM কে শুভেচ্ছা জানিয়ে-মে মাসে। অলি পাবের ঘটনা জানুয়ারিতে। আমার বিজেপির হয়ে এই সব কনটেন্ট মার্চ- মে, সেটাও কমিশনের ওয়েবসাইটে পাবেন।’ সায়ক অবশ্য এদিন লিখেছেন, সবশেষে ঘেন্না নয় বরং ভালোবাসার জয় হয়। তাই তিনি হেটারদের সাফাই দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। তবে শুধুমাত্র নিজের শুভাকাঙ্ক্ষী এবং অনুরাগীদের কথা ভেবে যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কৃতকর্মের ব্যাখ্যা দিতে হল সায়ককে তাতে নিঃসন্দেহে 'ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে' অবস্থাই স্পষ্ট হয়েছে অভিনেতার।