খরা শুধু বৃষ্টি কম হলেই বলা যায় না। সরকারি ভাবে কোনও এলাকাকে খরাকবলিত ঘোষণা না করা পর্যন্ত প্রশাসনিক অর্থে সেখানে খরা হয়েছে বলা যায় না। মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) এ বার সেই ঘোষণাই করতে হল রাজ্য সরকারকে। বর্ষার মরসুম শেষ হওয়ার মুখে রাজ্যের ৩৫৮টি তহসিলের মধ্যে ২৬৫টিকে খরাকবলিত ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, বৃষ্টির ঘাটতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে পরিস্থিতিকে আর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। অমরাবতী, সোলাপুর, লাতুর-সহ একাধিক এলাকায় দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে কৃষির উপর।

আরও পড়ুন: মদ নিষিদ্ধ নাগাল্যান্ডে বিষমদের আতঙ্ক, মৃত্যু ১৯ জনের

এখন প্রশ্ন, খরা ঘোষণার পরে কী পাবেন চাষিরা? আপাতত সরকারের তরফে ঋণ সংক্রান্ত কিছু সুবিধা-সহ একাধিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়েছে। তবে ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনও সামনে আসেনি। তার জন্য আগে জানতে হবে ক্ষতির আসল পরিমাণ। কোন এলাকায় কত জমিতে ফসলের ক্ষতি হয়েছে, কোথায় পরিস্থিতি বেশি খারাপ তার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করবে প্রশাসন। মাঠে গিয়ে ছবি তোলার পাশাপাশি জিপিএসের (GPS) মাধ্যমে জায়গাগুলির অবস্থান নথিভুক্ত করা হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আর্থিক সহায়তার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গোটা বর্ষায় মহারাষ্ট্রে স্বাভাবিক বৃষ্টির তুলনায় প্রায় ১৮.৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ঘাটতি আরও বেশি। ছত্রপতি সম্ভাজিনগর অঞ্চলে প্রায় ৩১ শতাংশ, পুণে ও নাসিকে প্রায় ৩০ শতাংশ এবং অমরাবতী-নাগপুরে (Amravati-Nagpur) প্রায় ২৭ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। রাজ্যের কয়েকটি জেলায় ঘাটতি ৪০-৫০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। বর্ষার মরসুমে টানা ২১ দিন কোনও এলাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃষ্টি না হলে সেখানে খরা হয়েছে বলে ধরা হয়। মহারাষ্ট্রের ওই তালুকগুলি সেই মাপকাঠি পূরণ করেছে। ফলে সমস্যা শুধু পরিসংখ্যানের নয়, তার প্রভাব সরাসরি গিয়ে পড়েছে চাষের মাঠে।

আরও পড়ুন: মমতার সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়িতে ভয়ঙ্কর হামলা-ভাঙচুর: আহত বিধায়ক, নিষ্ক্রিয় পুলিশ!

সবচেয়ে বেশি টের পাচ্ছেন সেই কৃষকেরাই, যাঁদের বর্ষার জলের উপর নির্ভর করেই খারিফের চাষ করতে হয়। সয়াবিন, তুলো, মুগ, ভুট্টার মতো ফসলের চাষে বৃষ্টির ঘাটতি ধাক্কা দিয়েছে। কোথাও ফসলের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে, কোথাও ফলন নিয়ে তৈরি হয়েছে আশঙ্কা। বিড় ও ধারাশিবের মতো এলাকায় দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় পরিস্থিতি কৃষিজমির বাইরেও পৌঁছেছে। জল জোগাড় করাই কঠিন হয়ে উঠেছে বহু মানুষের কাছে। ক্ষতিপূরণের দাবিতে কৃষকদের একাংশ ইতিমধ্যেই আন্দোলনে নেমেছেন।

আরও পড়ুন: “পুলিশ এবার উর্দি ছেড়ে বিজেপির পোশাক পরুক”: কুণালের উপর হামলায় তীব্র ক্ষোভ মমতার

অন্য দিকে, একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া পর পর নিম্নচাপের কারণে সেখানে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আবহবিদদের একাংশের মতে, দেশের বিভিন্ন অংশে বৃষ্টির এই অসম বণ্টনের পিছনে এল নিনোরও ভূমিকা থাকতে পারে। তবে মহারাষ্ট্রে এখন কারণের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিস্থিতি সামলানোর প্রশ্ন। সরকারি ভাবে খরা ঘোষণার পর তাই নজর থাকবে দু’টি বিষয়ের দিকে মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এবং সেই হিসাব অনুযায়ী কৃষকদের জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তা।