মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্তের জবাবদিহি করতে হবে নির্বাচন কমিশনকেই। এবার ঘরে বাইরে চাপের মুখে দেশের নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের সঙ্গে একই সুরে সুর মেলালেন এনডিএ-র শরিক দলগুলির নেতারা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান এবং রাষ্ট্রীয় লোক মোর্চার প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা বললেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তা নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই নিরসন করা উচিত এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উচিত এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া।

এদিন চিরাগ বলেন,"নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যদি এ ধরনের প্রশ্ন তোলা হয়, তবে আমি মনে করি নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরাটা নির্বাচন কমিশন—বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)-এর দায়িত্ব। বিরোধী দল কী বলছে তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না, কারণ রাজনীতি করাই তাঁদের কাজ।"

পাসওয়ান আরও বলেন,"নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই জনগণের আস্থা বজায় রাখতে হবে; কারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে যদি সন্দেহের সৃষ্টি হয়, তবে তা হবে অনুচিত। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের উচিত দৃঢ়ভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা, যাতে মানুষের মনে কোনো সন্দেহের সৃষ্টি না হয়।"

বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি প্রকাশিত এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনের পর। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে SIR-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন-বিয়োজন, নতুন ভোটারদের জন্য ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন এবং ভোটার ডেটাবেসে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয় ছিল।

এই ইস্যুতে এবং জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আজ দেশজুড়ে বিরোধীরা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একাধিক বিরোধী নেতারা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।