SIR নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠার পরে এবার শীর্ষ আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হল জনস্বার্থ মামলা। শুক্রবার, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী নামে এক আইনজীবী CEC হিসেবে জ্ঞানেশের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানান। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করার আবেদনও করা হয়েছে। তবে, শুধু জ্ঞানেশ নন, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গার্গ ও কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল আইটি সীমা খান্না (Sima Khanna) প্রত্যেককে জনপ্রতিনিধি আইনে শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য পদাধিকারীদের অন্ধকারে রেখেই এসআইআর নিয়ে একা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। গত ১০ মাসে কমপক্ষে ১৪ বার লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী। এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতেই দেশজুড়ে ঝড় ওঠে। জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব। জ্ঞানেশ পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)।
এবার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল সুপ্রিম কোর্টে। শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠী (Shailen Moni Tripathi) দাবি করেন, শুধু শাস্তি নয়, নির্বাচন কমিশনার হিসাবে জ্ঞানেশের নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। ওই আইনজীবীর অভিযোগ, সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী অন্য নির্বাচন কমিশনারদের উপেক্ষা করে একনায়কের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। পাশাপাশি তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার যে সিদ্ধান্ত বা নির্দেশগুলি নিয়েছিলেন তা সব বাতিল করার দাবি করেন আইনজীবী। শুধু জ্ঞানেশ নয়, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মনীশ গার্গ ও কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল আইটি সীমা খান্না প্রত্যেককে জনপ্রতিনিধি আইনে শাস্তি দেওয়া হোক বলে দাবি জানিয়েছেন মামলাকারী।
শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সফটওয়্যারে যেসব পরিবর্তন এনেছেন, সেগুলি অসাংবিধানিক ও বাতিলযোগ্য। ওই সব সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করা হয় এবং মূল 'ফর্ম ৬' (Form 6) পুনর্বহাল করার দাবি জানানো হয়েছে। চলমান 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (SIR) প্রক্রিয়ার সময় কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হল, সে বিষয়ে একটি 'বিশেষ তদন্তকারী দল' (SIT)-এর মাধ্যমে তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে আবেদনে।
















