নিট পরীক্ষায় (NEET Exam) অনিয়মের ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। অভিযোগ উঠেছে সেখানেই এক মহিলার ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) সাহায্যে বিকৃত করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার হয়। সেইসঙ্গে ছবিটিকে ছড়িয়ে দেওয়া হয় সামাজিক মাধ্যমে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এক মহিলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা CJP-র চার নেতার বিরুদ্ধে দিল্লি হাই কোর্টে (Delhi High Court) দায়ের করেন মামলা। যার প্রেক্ষিতে শুক্রবার আদালতের তরফে সিজেপির চার নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং রত্না সিংকে নোটিশ পাঠানো হয়। সেইসঙ্গে মেটাকে সামাজিক মাধ্যম থেকে ছবি সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। 

আরও পড়ুন: গিল্ড অফিস থেকেই গ্রেফতার বাপি! স্বরূপ-ঘনিষ্ঠ মেকআপ আর্টিস্টের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ

মামলাকারী মহিলার অভিযোগ, জুলাই মাসে যন্তর মন্তরে CJP-র বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় তাঁর ছবি অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করে। শুধু তাই নয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর মুখ বদলের প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাঁর মুখ একটি আপত্তিকর ছবিতে বসিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সমাজমাধ্যমেই নয়, ওই ছবি বিক্ষোভস্থলে ব্যানার হিসাবেও ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে ছবিটি এবং সেটি ঘিরে তৈরি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মহিলার দাবি, এই ঘটনার জেরে তাঁর সম্মানহানি হয়েছে এবং ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি হুমকির মুখেও পড়েছেন। ঘটনার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর দিল্লি পুলিশের সাইবার থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। পরের দিন অর্থাৎ ২৫ সেপ্টেম্বর, দিল্লি হাই কোর্টে মামলা করেন তিনি। মামলায় অবিলম্বে আপত্তিকর ছবি সরানো এবং নিজের নিরাপত্তার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন জানান তিনি।

শুক্রবার মামলার শুনানিতে আদালত বিষয়টির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশকে অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়। বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া বলেন, বিষয়টি শুধু একজন মহিলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, দেশের প্রধানমন্ত্রীর নামও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ফলে তদন্তের ক্ষেত্রে পুলিশকে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত ওই মহিলাকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পরিচয় ও ঠিকানা গোপন রাখার নির্দেশও দিয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে তাঁর ঠিকানা শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের কাছে রাখার কথা বলা হয়েছে, যাতে তা প্রকাশ্যে না আসে। তবে এই মামলার প্রেক্ষিতে সিজেপি নেতাদের বক্তব্য সামনে আসেনি। দিল্লি হাই কোর্ট আগামী ১৪ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।