সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সরকারি ভাষা হিন্দি (Hindi) করার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা গ্রহণ করল না শীর্ষ আদালত। কেন্দ্রকে এ বিষয়ে কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হলেও, মামলাটি শুনানির পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যায়নি প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের (Surya Kant) বেঞ্চ। আদালতের বক্তব্য, ভাষা নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে চলছে। তাই এ বিষয়ে আলাদা করে আদালতের নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আরও পড়ুন: বান্ধবীর বাড়িতে 'গুণ্ডা' পাঠাচ্ছেন মা নীলাম! মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক পুত্র

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। আবেদনকারী ব্রহ্মেশ্বর নাথ মিশ্রের হয়ে আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, সুপ্রিম কোর্টের সরকারি ভাষা হিসেবে হিন্দিকে ব্যবহারের সুপারিশ করার জন্য কেন্দ্রকে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দেওয়া হোক। এই দাবির পক্ষে সংবিধানের একাধিক বিধানের কথাও আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে হাসিরানির হলফনামা নিয়ে মামলা, রায় আপাতত স্থগিত হাই কোর্টে

তবে শুরুতেই সেই আবেদনে সায় দেয়নি বেঞ্চ। প্রধান বিচারপতি জানান, সুপ্রিম কোর্ট নিজস্ব পরিসরেই ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনছে। ইতিমধ্যেই মামলার সংক্ষিপ্তসার হিন্দিতে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাকেও এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

ভাষার ক্ষেত্রে দেশের বৈচিত্র্য এবং আঞ্চলিক ভাষাগুলির গুরুত্বের কথাও স্পষ্ট করেন প্রধান বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের পরিবর্তন কোনও একটি আদালতের নির্দেশে রাতারাতি করা যায় না। প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় সংস্কারের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে তা বাস্তবায়ন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টও সেই পথেই এগোচ্ছে। এই অবস্থান জানিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রহ্মেশ্বর নাথ মিশ্রের জনস্বার্থ মামলাটি খারিজ করে দেয় শীর্ষ আদালত।