এক মাসের জন্য আমেরিকায় ফিরতে পারবেন কুখ্যাত মার্কিন ‘ভাড়াটে’ ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক (Notorious American ‘mercenary’ Matthew Aaron VanDyke)। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে ফের ভারতে আসতে হবে। এই শর্তেই শুক্রবার তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে দিল্লির বিশেষ আদালত। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সাংসদ জয়রাম রমেশ (Congress MP Jairam Ramesh)। তাঁর অভিযোগ, মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেই ভ্যানডাইককে আমেরিকায় (America) যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগের তদন্তের মধ্যে থাকা এক মার্কিন নাগরিককে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া নিয়ে এভাবেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ভ্যানডাইকের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত উত্তর-পূর্ব ভারতকে ঘিরে একটি কথিত পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই অঞ্চলের কয়েকটি জনজাতিকে সামরিক ধাঁচে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আলাদা ‘খ্রিস্টান রাষ্ট্র’ তৈরির ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মার্কিন সেনাবাহিনীতে ভাড়াটে সৈনিক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকা ভ্যানডাইককে গ্রেফতারের পর তিহাড় জেলে রাখা হয়েছিল।
মার্চে দমদম বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ (NIA)। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। মামলার প্রথম পর্যায়ে ইউএপিএ-র ১৮ নম্বর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে ভ্যানডাইক-সহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারার উল্লেখ দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করে।
জামিনের পর বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ভ্যানডাইক। সেই আবেদনেই সায় দিয়েছে আদালত। ফলে আপাতত ভারত ছেড়ে আমেরিকায় যাওয়ার পথ খুলে গেল তাঁর সামনে। তবে নির্ধারিত এক মাসের মধ্যে তাঁকে ভারতে ফিরে আসতে হবে। তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে থাকা একজন বিদেশি নাগরিককে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েই তাই প্রশ্ন উঠেছে।
ভ্যানডাইকের জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরাও। জয়রাম রমেশের বক্তব্য, মার্কিন চাপের কারণেই তাঁকে আমেরিকায় ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ফলে আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে একদিকে যেমন ভ্যানডাইকের বিরুদ্ধে চলা তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নিয়ে নজর রয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক মহলেও তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
















