লাদাখে (Ladakh) লেহতে হিংসার ঘটনার এক বছর পূর্তিতে ফের সরব হলেন পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk) । লাদাখকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় সুরক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন তিনি। বৃহস্পতিবার লেহ-তে আয়োজিত কর্মসূচিতে গত বছরের পুলিশি গুলিচালনায় চার জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন সোনম। একই সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের সমালোচনা করার অপরাধে তাঁকে ‘এনকাউন্টারে’ করে মেরে ফেলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: চার সপ্তাহ সময় মিলল না, ৮ অক্টোবরের মধ্যেই জবাব দিতে হবে NCPI সাংসদদের
সোনম বলেন, “ আমি জানি সরকার আমাকে চাপে দেওয়ার চেষ্টা করবে। এরআগে আমাকে জেলে পাঠানো হয়েছে। এখন শুধু এনকাউন্টার করাটাই বাকি। আমার ইচ্ছা যে ওরা আমাকে এনকাউন্টার করে মেরে ফেলুক। সেটা হলে অন্তত দেশবাসী জাগবে।” ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর লাদাখের বিভিন্ন দাবিকে সামনে রেখে চলা লাদাখ আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়। পুলিশি পদক্ষেপে চার জনের মৃত্যু হয়। সেইসময় জাতীয় নিরাপত্তা আইনে সোনমকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছিল। চলতি বছরের মার্চে কেন্দ্র সেই আটকাদেশ প্রত্যাহার করে। অন্যদিকে লাদাখের হিংসার ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি এস চৌহানের নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। তদন্তের বিষয় ছিল ওই দিনের পরিস্থিতি, পুলিশের পদক্ষেপ এবং চার জনের মৃত্যুর কারণ। ঘটনার এক বছর পূর্তিতে সেই তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনার দাবি তুলেছেন ওয়াংচুক। তাঁর বক্তব্য, রিপোর্ট প্রকাশ না করা হলে একটি স্বাধীন ‘পিপলস ট্রাইব্যুনাল’ গড়ে ঘটনার তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি গত বছরের মৃত্যুর জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) দায়ী করে তাঁর পদত্যাগের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
লাদাখের দীর্ঘদিনের দাবি মূলত রাজ্যের মর্যাদা, সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় অন্তর্ভুক্তি। ২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীর পুনর্গঠনের পর লাদাখ পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পর থেকেই এই দাবিতে আন্দোলন চলছে। ওয়াংচুক-সহ লাদাখের বিভিন্ন সংগঠনের বক্তব্য, স্থানীয় জমি, সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষার জন্য আরও সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রয়োজন। এদিকে, লাদাখের দাবিদাওয়া নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনাও চলছে। লেহ অ্যাপেক্স বডি এবং কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সম্প্রতি লাদাখের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে ৩৭১(কে)-এর মতো বিশেষ বিধানের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে, যদিও এখনও কোনও চূড়ান্ত সাংবিধানিক সমাধান হয়নি।
















