মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) পদ থেকে সরানোর দাবিতে ফের সক্রিয় বিরোধী ইন্ডিয়া জোট (INDIA)। সূত্রের খবর, লোকসভা এবং রাজ্যসভা—দুই কক্ষে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট (Impeachment) করার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। চলছে খসড়া তৈরির কাজও। বিরোধী শিবিরের দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই মতপার্থক্যের যে তথ্য সামনে এসেছে, তার ভিত্তিতে এবার আরও জোরালো ভাবে সংসদে বিষয়টি তোলা হবে। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই দুই কক্ষে নোটিশ জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: “রক্ষাকবচ থাকতে পারে না”, জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ মহুয়ার

বিরোধী শিবিরের এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছে ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর সাম্প্রতিক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ নিয়ে কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও পুনর্বহাল, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত আবেদন এবং ‘ফর্ম-৬’-এর পরিবর্তন-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে দুই নির্বাচন কমিশনার সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপকে ‘অননুমোদিত’ এবং ‘বেআইনি’ বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেগুলো মানা হয়নি। এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পরই জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে একাধিক বিরোধী দল। কংগ্রেসের উদ্যোগে নতুন করে দুই কক্ষেই প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সূত্রের খবর। বিরোধী শিবিরের একাংশের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যের এই তথ্যকে এবার সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সামনে আনা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: ১৩ কোটি ভোটারের অধিকার ফেরতে হবে: জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি CJP-র

জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর দাবি অবশ্য এই প্রথম নয়। চলতি বছরের মার্চেও বিরোধী সাংসদেরা তাঁর অপসারণের দাবিতে প্রস্তাব আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সিইসি-র বিরুদ্ধে ‘প্রমাণিত অসদাচরণ’-এর ৯টি নির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ইমপিচমেন্টের দাবি তুলেছিলেন। সেই সময় লোকসভা ও রাজ্যসভায় প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা হয়েছিল। পরে ৬ এপ্রিল দুই কক্ষের প্রিসাইডিং কর্তৃপক্ষ সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয়।

আইন অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের প্রক্রিয়ার অনুরূপ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতি ও যে কারণে অপসারণ করা যায়, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকেও একই পদ্ধতিতে এবং একই কারণে অপসারণ করা সম্ভব। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য হলে পরবর্তী ধাপে তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। শেষ পর্যন্ত দুই কক্ষেই নির্দিষ্ট বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেই অপসারণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়।