নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ফের সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) আক্রমণ শানালেন রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। ভোট চুরির তদন্তের আওতায় মোদি-শাহকেও আনার দাবি তুললেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা। একইসঙ্গে, ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে মমতা থেকে কেজরিওয়াল, বিরোধী দলগুলির মধ্যে ১০০ শতাংশ ঐক্য রয়েছে বলেই দাবি রাহুলের। বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে (Indira Bhawan) সাংবাদিক বৈঠকে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন তোলেন রাহুল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) এদিন ‘দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন রাহুল। অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করে কংগ্রেস নেতা বলেন, ভোটাধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার উপর যে এসেছে তার জবাবদিহি করতেই হবে।

আরও পড়ুন: IFA Shiled: পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন, জয় দিয়ে অভিযান শুরু ইস্টবেঙ্গলের

২০২৩ সাল থেকেই রাহুল ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলে আসছেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন-সহ একাধিক বিধানসভা নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগের তদন্ত প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি। সেই তদন্তে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখার কথা বলেন কংগ্রেস নেতা। জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়েও এদিন তীব্র আক্রমণ শানান রাহুল। তাঁর কথায়, নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই ভোটার তালিকা ও নির্বাচন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তির প্রসঙ্গ তুলে রাহুল বলেন, এই বিষয়গুলি সামনে আসার পরেই তাঁর অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে। 

আরও পড়ুন: "জানি না এখনও কতটা লড়াই বাকি," ঋতব্রতর পোস্ট ঘিরে জল্পনা

রাহুলের অভিযোগ, আইন করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘রক্ষাকবচ’ দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগের সময়ও তিনি আপত্তি জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর কথা শোনা হয়নি। নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দেওয়া হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে গণতন্ত্রের উপর, এমনটাই মত রাহুলের। 

শুধু কংগ্রেস নয়, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এখন একাধিক বিরোধী দল সরব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলেছেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও তাঁকে গ্রেফতার করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। ফলে নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের সুর ক্রমেই এক জায়গায় এসে মিলছে। 

রাহুলের বক্তব্যে এদিন উঠে আসে অতীতের নির্বাচনী রাজনীতির প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, ইন্দিরা গান্ধী বা রাজীব গান্ধীর সময় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই পরিস্থিতি আর দেখা যাচ্ছে না। এর পিছনে "ভোট চুরি"র অভিযোগকেই অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। সবশেষে রাহুলের বার্তা, ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেস পিছিয়ে যাবে না। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, দুই-ই নেওয়া হবে।