চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের ধাক্কা সামলাতে এবং মোদি-বিরোধী আবহ ভোঁতা করতে বিরোধীদের শক্ত ঘাঁটিগুলিকেই বেছে নিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটার ছক কষা হয়েছিল। আর সেই পরিকল্পনা রূপায়ণে মূল হাতিয়ার করা হয়েছিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। এমনই মারাত্মক অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করলেন সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে।
সিজেপি নেতৃত্বের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না-পাওয়া এবং এনডিএ ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান মাত্র দুই শতাংশে নেমে আসায় সিঁদুরে মেঘ দেখেছিলেন অমিত শাহরা। সেই রাজনৈতিক জমি ফিরে পেতেই প্রশাসনিক যন্ত্র ও নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনী এলাকাগুলিকে বিশেষ ভাবে নিশানা করা হয়।
পরিসংখ্যান পেশ করে অভিজিৎ দাবি করেন, যে সব শীর্ষ বিরোধী নেতা মোদি-বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁদের কেন্দ্র থেকেই পরিকল্পিত ভাবে বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাঁর পেশ করা হিসাব অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্রে ৫১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল, যার জেরে তিনি ১৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়েন। একই ভাবে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের কেন্দ্রে ১ লক্ষ ভোটারের নাম ছাঁটা হয়েছিল এবং তিনি ৯ হাজার ভোটে পরাস্ত হন। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের নির্বাচনী ক্ষেত্রেও ৪০ হাজার ভোটারের নাম কাটা যায়, যার ব্যবধান ছিল মাত্র ৪ হাজার ভোট। সাংবাদিক বৈঠকে সিজেপি আহ্বায়কের সাফ কথা, বিষয়টি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা প্রশাসনিক ত্রুটি নয়। বরং অঙ্ক কষে বিরোধী শিবিরের শক্তিক্ষয় করতেই ভোটার তালিকায় এই ব্যাপক কাঁচি চালানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় শাসকদলের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে সাংবিধানিক সংস্থাকে ব্যবহার করার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
















