দেশে নাবালিকা সুরক্ষার কঙ্কালসার চেহারাটা আরও একবার বেআব্রু হয়ে গেল। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-র সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান যে অন্ধকার বাস্তবকে সামনে এনেছে, তা দেখে শিউরে উঠছে আমজনতা থেকে সমাজকর্মী সকলেই। সরকারি রিপোর্ট বলছে, এক বছরেই দেশে ১৮ বছরের কম বয়সি ৪৩,৬৭৫ জন নাবালিকা ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পরিসংখ্যানের সবচেয়ে আশঙ্কাজনক দিকটি হল, গত এক দশকে এই ধরনের নৃশংস অপরাধের গ্রাফ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় চার গুণ!
আরও পড়ুন: জোড়া সোনা জিতে বাড়ি ফিরেই মর্মান্তিক পরিণতি নবম শ্রেণীর ছাত্রীর
NCRB-এর তুলনামূলক খতিয়ান বলছে, ২০১৫ সালে দেশজুড়ে যেখানে ১০,৯৩৪টি নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, ২০২৪-এর শেষে সেই সংখ্যাটাই একলাফে এসে দাঁড়িয়েছে ৪৩,৬৭৫-এ। প্রতি বছরই জ্যামিতিক হারে বাড়ছে পুলিশে জমা পড়া পকসো (POCSO) আইনের মামলার সংখ্যা। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে মাত্র চার বছরে দেশের ১.৮৩ লক্ষ শিশুকন্যা চরম যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে, যা পকসো আইনের আওতাধীন মোট অপরাধের সিংহভাগ।
আরও পড়ুন: হোটেলের খাবারে চুল, প্রতিবাদ করতেই অন্তঃসত্ত্বা পর্যটককে মারধরের অভিযোগ!
রিপোর্টের পাতা ওল্টালে যে বাস্তবটি সামনে আসে, তা আরও বেশি উদ্বেগজনক। নাবালিকাদের ওপর হওয়া যৌন হেনস্থার ঘটনায় প্রায় ৯৭ শতাংশ ক্ষেত্রে মূল অভিযুক্তরা নির্যাতিতার কোনও না কোনভাবে পূর্বপরিচিত। অর্থাৎ, যাদের ওপর ভরসা করে পরিবার বা শিশুরা, তাদের ঘরের অন্দরেই লুকিয়ে রয়েছে বিপদ।
তথ্য বলছে, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সের কিশোরীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৯৪,৫০৩ জন। ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সি নাবালিকা আক্রান্তের সংখ্যা ৭০,৪৪২ জন। পরিসংখ্যান স্পষ্ট করছে যে, মোট নির্যাতিতাদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশেরই বয়স ১২ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
আরও পড়ুন: মমতার সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় কুণালের গাড়িতে ভয়ঙ্কর হামলা-ভাঙচুর: আহত বিধায়ক, নিষ্ক্রিয় পুলিশ!
ধর্ষণের পাশাপাশি অন্যান্য ধারার অপরাধের খতিয়ানও দিয়েছে ব্যুরো। এই চার বছরে নন-পেনিট্রেটিভ সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট বা তীব্র যৌন নিগ্রহের শিকার হয়েছে ৯৬,৫০৫ জন শিশু। যৌন হয়রানির মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ১২,৮০৭টি। এমনকি ২,৯২৪ জন শিশুকে জোরপূর্বক নীল ছবি বা প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ, কঠোর পকসো আইন এবং ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের মাধ্যমে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া সত্ত্বেও অপরাধীদের সাজার হার এখনও ৩০ শতাংশের নিচে ঘোরাফেরা করছে। ফলে আইনের ফাঁক গলে মামলার দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই অপরাধীদের মধ্যে শাস্তির ভয় কমছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। দেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আইনি সক্রিয়তা এবং সামাজিক সচেতনতা দুইয়েরই আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
















