মুম্বইয়ের কাছে ভিভান্ডিতে গণধর্ষণের অভিযোগে প্রাক্তন BJP বিধায়ক নরেন্দ্র পাওয়ারের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করল আদালত। সোমবার ভিভান্ডির অতিরিক্ত দায়রা আদালতের বিচারক এন কে কারান্ডে জানান, অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। প্রাথমিকভাবে মামলা সত্য হওয়ার মতো উপাদান রয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ সেপ্টেম্বর স্বামীর সঙ্গে বিবাদ মেটানোর কথা বলে অভিযোগকারী মহিলাকে নিজের অফিসে ডেকেছিলেন কল্যাণ পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক নরেন্দ্র পাওয়ার। এরপর তাঁকে বাপগাঁওয়ের একটি ফার্মহাউসে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। সেখানে সহ-অভিযুক্ত শৈলেশ পাটিলের সঙ্গে মিলে মহিলার উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ, ঘটনার আগে তাঁকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়েছিল এবং ভয় দেখানো হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে। পরে তাঁকে বাড়ির কাছে নামিয়ে দেওয়া হয় বলে FIR-এ উল্লেখ রয়েছে।
আদালতে পাওয়ারের আইনজীবীর দাবি ছিল, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিরোধ ও আর্থিক সমঝোতার চাপে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা পক্ষ আরও দাবি করে, সম্পর্কটি সম্মতিপূর্ণ ছিল। FIR দায়ের করতে তিন দিন দেরি হওয়াকেও প্রশ্নের মুখে তোলা হয়। এমনকি অভিযোগকারী ঘটনার কয়েক দিন পর গণেশ উৎসব উপলক্ষে পাওয়ারের বাড়িতে গিয়েছিলেন বলেও আদালতে দাবি করা হয়। কিন্তু সেই যুক্তি মানেনি আদালত। সরকারি আইনজীবী মুন্ধের বক্তব্য ছিল, পাওয়ার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আগেও অপরাধের মামলা রয়েছে। তদন্তের প্রয়োজনে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি—বিশেষ করে মেডিক্যাল পরীক্ষা, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত গাড়ি, মোবাইল ফোন এবং ফার্মহাউসের নিখোঁজ CCTV/DVR-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধারের জন্য।
FIR দায়েরে তিন দিনের বিলম্ব নিয়েও আদালতে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সরকারি পক্ষের বক্তব্য, ঘটনার পর অভিযোগকারী শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। পাশাপাশি একজন প্রভাবশালী প্রাক্তন বিধায়ক এবং এক অস্ত্রধারী পুলিশকর্মী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার ফলে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। আদালত এই পরিস্থিতিতে FIR দায়েরে বিলম্বকে যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করেছে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ—আগ্নেয়াস্ত্রের ভয় বা জবরদস্তির পরিস্থিতিতে পাওয়া কোনও তথাকথিত সম্মতিকে বৈধ সম্মতি হিসেবে ধরা যায় না। বিচারক আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগকারীর গোপনে ভিডিয়ো রেকর্ড করার উদ্যোগের বিষয়টিও আদালতের নজরে এসেছে এবং তা তাঁর অনিচ্ছার অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে প্রাথমিকভাবে বিবেচিত হয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে নরেন্দ্র পাওয়ারকে আগাম জামিন দিতে অস্বীকার করে ভিভান্ডি আদালত। মামলায় পাওয়ার এবং শৈলেশ পাটিলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং Arms Act-এর বিভিন্ন ধারায় ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ভয় দেখানো, অভিন্ন অভিপ্রায়-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
















