বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে লড়াই করে দুই কেন্দ্রে জয়লাভের পর নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যে কেন্দ্রের ভোটার সেখানকার মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে বিরোধীদের অভিযোগ বাড়তেই, এবার ভোটের দিনে বড় বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে জানালেন আমৃত্যু এখানকার ভোটার থাকবেন। আর ভবানীপুরের মানুষ যতদিন ভালোবাসবেন সেখানকার বিধায়ক হিসেবে কাজ করবেন। পাশাপাশি AJUP চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আইন ভাঙলে পুলিশ পদক্ষেপ করবে।

মঙ্গলবার টোটো করে নিজের কেন্দ্র নন্দনায়কবাড় বুথে যান মুখ্যমন্ত্রী। ১০ টা বেজে ৪৫ মিনিট নাগাদ ভোট দেওয়ার জন্য শান্তিকুঞ্জ থেকে বেরিয়ে কনভয় থেকে নেমে টোটো চড়ে পৌঁছন ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে।তাঁকে দেখার জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট উন্মাদনা চোখে পড়ে। বুথে হাজির হন বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। এরপর ভোট দিয়ে বেরিয়ে ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। নিয়ম মেনে বাইরে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উপনির্বাচনে সাধারণত কম ভোট পড়ে। 'নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণ ভোট হচ্ছে। আমার বিশ্বাস ৮৫ শতাংশ ভোট পড়বে। ফলাফলের বিষয়ে এখন কিছু বলবো না। তবে ২০১৬ সালে আমি যে বিপুল মার্জিনে জিতেছিলাম এবার সেটা ছাড়িয়ে যাবে।।শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নন্দীগ্রামের ভোটারই থাকব। এখানকার মানুষের কাছে আমার দৃঢ় অঙ্গীকার— কালের নিয়মে সবাইকে চলে যেতে হয়, তবে আমৃত্যু আমার নাম এই নন্দনায়কবাড়ের ভোটার তালিকাতেই থাকবে।'যে কেন্দ্র থেকে শুভেন্দু একাধিকবার ভোটে জয়লাভ করেছেন সেই নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেওয়ায় সেখানকার মানুষের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একটা আসন ছাড়তেই হত। তবে এখানকার মানুষ আমাকে যেরকম দেখেছেন আমি একই রকম আছি এবং থাকবো। সকলে জিজ্ঞাসা করছিলেন কবে আবার আসবো। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় প্রতিবার আসি এবারেও আসব। 

আরও পড়ুন: বাংলায় এখন শুভেন্দুর ছায়া ক্রমশ বিস্তারিত হচ্ছে বিজেপির উপর

 নির্বাচনের দিন প্রার্থী এবং ভোটাররা ছাড়া বাইরের কেউ ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের আশেপাশে থাকতে পারেন না। কিন্তু হুমায়ুন কেন সকাল থেকে এদিক ওদিক ঘুরে গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করছিলেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিজেপি প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। তাঁর গ্রেফতারি প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে শুভেন্দু বলেন, "আইন সবার জন্য সমান।আমি মুখ্যমন্ত্রী, সরকারি নিরাপত্তা পাই। আইন সকলের মেনে চলা উচিত। আমি ভোট দেওয়ার পর ভাড়া ঘরে থাকতে পারি। বুথের বাইরে যাওয়া, প্রচার করার সুযোগ নেই। আমি সেসব করব নাআমি মুখ্যমন্ত্রী হলেও অন্য বুথে গিয়ে নিয়ম ভাঙলে পুলিশ আমাকেও আটক করতে পারে।।নওদার বিধায়ক নির্বাচনী বিধিভঙ্গ করেছিলেন। আইন ভাঙার কারণেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।”

 

নন্দীগ্রামের পাশাপাশি আজ রেজিনগরে ও উপনির্বাচন হচ্ছে। এদিন সকালে ভোট দেওয়ার পর সেখানে দাঁড়িয়ে পুলিশকে হুমকি, সমর্থকদের মুগুর নিয়ে রাস্তায় নামার আহ্বান ও প্রার্থী না হয়েও বুথে ঢুকে উত্তেজনার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন হুমায়ুন। পুলিশকে রাজ্য সরকারের অ্যালসেশিয়ান বলে কটাক্ষ করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ওনার কথার এত গুরুত্ব নেই।আগামী ৯ তারিখ বহরমপুরে দেখা হবে। এখন এই নিয়ে কোনও মন্তব্য নয়। এটি নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বিরোধীদের বুথ ক্যাম্প ও পোলিং এজেন্টদের অনুপস্থিতিকে কটাক্ষ করে শুভেন্দুর দাবি, মানুষ রাজ্য সরকারের উপর এবং নরেন্দ্র মোদির উপর আস্থা রেখেছেন। মাত্র ৫ মাস হয়েছে নতুন সরকারের, আগামী দিনে প্রবীনদের নাগরিক সুবিধা দেওয়া থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন, গ্রামীন পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকে নজর দিয়ে আরও কাজ করবে সরকার। আজ নন্দীগ্রাম থেকে দুপুরের মধ্যেই কলকাতায় ফিরবেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে একটি প্রশাসনিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলে জানা গিয়েছে।