দিল্লিতে যেভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনকে অপব্যবহার করে ভোট লুঠ করে, প্রকৃত ভোটারকে বাদ দিয়ে, সরকারি মিশনারিকে অপব্যবহার করে, কারচুপি করে পিছন দরজা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। উপনির্বাচনেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে বলেই অভিযোগ মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি সাফ জানান, পুলিশ দিয়ে ভোট লুঠ করছে বিজেপি। 

আরও পড়ুন: হামলা হলে দায় কে নেবে? অভিষেকের নিরাপত্তা কমানোয় প্রশ্ন তুলে রাজ্যকে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, Z+ ফেরানোর ইঙ্গিত!

কুণাল আরও বলে,"একদিকে প্রচুর ভোটার বাদ। এখনও পর্যন্ত তাদের নাম ভোটাল তালিকায় ওঠেনি্। অকারণে পরিকল্পিতভাবে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে, পুলিশ দিয়ে যে সন্ত্রাস চালানো হয়েছে, বুথের পর বুথ কোনও এজেন্টকে বসতে দেওয়া হয়নি। গোটাটা পুলিশকে ব্যবহার করে করা হচ্ছে। এর আগে মানুষ জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতেন এখন সরকার ঠিক করে দিচ্ছে পুলিশ দিয়ে মানুষের ভোট কার দিকে পড়বে। বুথের পর বুথ বিস্তারিত যা তথ্য এসেছে সেখানে রবিউল আলম চৌধুরী, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। তিনি সমস্ত জায়গায় অভিযোগ ইতিমধ্যে জানিয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী তিনি একই অবস্থা। ওখানে ভোটচ লুঠ চলছে। সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে দিচ্ছে না। পুলিশকে দলদাসে পরিণত করেছে। পুলিশকে ক্যাডারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। বিজেপির গুন্ডারা পরে যাচ্ছে। আগে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে পুলিশকে। ভোট শুরু হওয়ার আগে থেকে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। আমাদের নেতা, কর্মী, এজেন্টদের ওপর তাণ্ডব করা হচ্ছে। অলিখিতভাবে গ্রেফতারির নামে আটক করে রাখা হচ্ছে। এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে। হুমকি দিচ্ছে, বুথের পর বুথ ফাঁকা করে দেওয়া হচ্ছে। অবাধে ভোট লুঠ করছে রেজিনগর ও নন্দীগ্রামে। কমিশনে আমাদের দলের তরফ থেকে যা যা জানানোর জানানো হয়েছে।"

বিধায়কের কথায়,"দিল্লিতে এত আন্দোলন চলছে, ঝড় চলছে, আন্দোলন, প্রতিবাদের ঝড়, তার থেকেও শিক্ষা নিচ্ছে না। যেভাবে বিজেপি নির্বাচন কমিশন ও পুলিশকে দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোটদানে বঞ্চিত করল এটা ভোটের নামে প্রহসণ, গণতন্ত্রের হত্যা। এর থেকে আগেই ফল বলে দিত। আমরাই জিতেছি বলত। এলাকায় প্রার্থী, প্রার্থীর আত্মীয়, কর্মী, এজেন্ট কাউকে থাকতে দেব না, আর কী কী করবে? মানুষ দেখলেন ছাপ্পায় প্রত্যক্ষভাবে পুলিশের অংশগ্রহণের অভিযোগ আসছে। একাধিক ভিডিও আসছে। গ্রামের মানুষ প্রতিবাদ করে বলছেন আমরা ভোটকেন্দ্রে যেতে চাই। দেখা যাচ্ছে পুলিশ আটকে রেখেছে। কেন? মানুষ বলছেন আমাদের গ্রাম থেকে কেউ ভোট দিতে যাচ্ছে না অথছ এত ভোট পড়ে গেছে। ছাপ্পা ভোট চলছে। পুলিশ বুথে ঢুকতে দিচ্ছে না। এজেন্টদের বসতে দেওয়া হল না। ঠিক বিধানসভা ভোটের গণনার দিন এজেন্টদের তুলে দেওয়া হয়েছিল। গণনা শুরু হওয়ার পর এজেন্টদের মেরে তুলে দেয়। যার সিসিটিভি ফুটেজ লজ্জায় বের করতে পারছে না। আর ইভিএম পুড়িয়ে দিতে হচ্ছে। ফলে আজ এই উপনির্বাচনের তীব্র নিন্দা, বিরোধিতা করছি। আমরা পরিষদীয় দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অশোকদার নেতৃত্বে এই প্রতিবাদ থাকছে। যথাযুক্ত জায়গায় প্রতিবাদ নথিভুক্ত করব।"

আরও পড়ুন: ৫ কোটির বিনিময়ে প্রেমানন্দের আশ্রমে বিরাট! বিস্ফোরক দাবি ফলাহারি মহারাজের

উপনির্বাচন নিয়ে কুণালের আরও বক্তব্য,"বিজেপি আগে থেকে ঠিক করেছে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর জিততে হবে। ওরা জানত মানুষের ভোটে জিতবে না। তাই পুলিশ, প্রশাসন নামিয়ে আতঙ্কের মাহল তৈরি করে প্রকৃত বিরোধীদের সরিয়ে, দালালগুলিকে সামনে রেখে, শিখণ্ডী খাড়া করে, পুলিশ দিয়ে ছাপ্পাবাজিগুলি করে গেল। এই ভোটে বিজেপির জয়ের সঙ্গে মানুষের মতামতের কোনও সম্পর্ক নেই। এই সরকার যদি সত্যিই মানুষের মতে জিতে থাকত তাহলে দুটো উপনির্বাচন নিয়ে এভাবে সন্ত্রাস, তাণ্ডব, জাল ভোট, আসল ভোটারকে ভোট থেকে বঞ্চিত করত না।