জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও পলাতক প্রশান্ত বর্মন (BDO Prashanta Barman)। এবার তাঁকেই আত্মসমর্পণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৩টের মধ্যে তাঁকে পুলিশের কাছে হাজির হতে হবে। ওই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ একইসঙ্গে প্রশান্ত বর্মণের বেতন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁর নামে থাকা সমস্ত বিডিও সম্পত্তির তালিকা তৈরি করে আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৪ ডিসেম্বর। ওইদিন তদন্ত কতদূর এগিয়েছে, সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেবে সিআইডি (CID)।
আরও পড়ুন: কৃষিযন্ত্র কিনতে ৮০ শতাংশ ভর্তুকি, মঙ্গল থেকেই আবেদন অনলাইনে
দীর্ঘদিন ধরে প্রশান্ত বর্মণের কোনও হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এদিন মামলার শুনানিতে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে হাই কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে এখনও আত্মসমর্পণ না করে রয়েছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত। একইসঙ্গে, একজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁর বেতন কীভাবে এখনও চালু রয়েছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
প্রশান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের সূত্রপাত গত বছরের অক্টোবরের একটি খুনের ঘটনা থেকে। বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে নিউ টাউনের যাত্রাগাছি এলাকার একটি খালধার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে প্রশান্তের নাম অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সামনে আসে।
এই মামলায় প্রথমে বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালত থেকে আগাম জামিন পেয়েছিলেন প্রশান্ত। তারই বিরোধিতা করে পুলিশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। আদালত তাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু প্রশান্ত তা করেনি। জুন থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের তদন্ত সিআইডির হাতে যায়। কিন্তু তারপরেও প্রশান্ত অধরাই থেকে যায়। মিলছে না খোঁজ। এবার অপসারিত বিডিওকে আত্মসমর্পণের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।















