দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) হাতে আটক হওয়ার পর রবিবার রাতে মুক্তি পেয়েছিলেন আইসা-র নেত্রী নেহা বোরা (Neha Bora)। সোমবার কলকাতায় পৌঁছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলির ডাকা কনভেনশনে যোগ দেন তিনি। দক্ষিণপন্থী সংগঠনগুলির বিক্ষোভের আশঙ্কায় বিমানবন্দর থেকে তাঁকে সন্তর্পণে যাদবপুরে নিয়ে আসেন বাম (CPM) কর্মী-সমর্থকেরা। ভিড় বাড়তে থাকায় মাঝপথে অনুষ্ঠানস্থলও পরিবর্তন করতে হয়। শেষ পর্যন্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কে পি বসু মেমোরিয়াল হলে অনুষ্ঠিত হয় কনভেনশন।

আরও পড়ুন: এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে দিল্লি, বিধায়ক বায়রনের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে কী জানাল পরিবার!


‘জেন জি আন্দোলন: প্রজন্ম ও প্রতিরোধের ঐক্য’ শীর্ষক এই কনভেনশনে এসআইআর, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার-সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন আইসা-র নেত্রী নেহা বোরা, এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য-সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতারা। বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেহা বোরা রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘আতঙ্কের পরিবেশ’ তৈরি হয়েছে। একের পর এক বাড়িতে বুলডোজার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সম্প্রতি এসআরএফটিআই-তে ঘটে যাওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিংসার বিরোধিতা করেন নেহা। বিজেপি এবং আরএসএসকেও তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।

 নেহার অভিযোগ, বিজেপি ও আরএসএস ‘বাংলাকে ধ্বংস করতে নেমেছে’। তাঁর দাবি, এই রাজনীতি মূলত হিংসা এবং ক্ষমতার রাজনীতি। তিনি বলেন, শিক্ষা বা পড়াশোনা নিয়ে তাঁদের ভাবনা নেই। ক্ষমতায় থাকার কারণে তাঁদের ‘গুন্ডামি’ আরও বেড়েছে বলেও কটাক্ষ করেন নেহা।

নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। নেহার অভিযোগ, ‘মিডিয়া, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ’—সবই ক্ষমতাসীনদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। একই সঙ্গে দাবি করেন, মানুষের ভোটের অধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এসআইআর প্রসঙ্গে নেহা বলেন, “মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হল ভোট দেওয়া। আর সেখানেই বারবার আঘাত করা হচ্ছে। সংবিধানকেও অপমান করা হচ্ছে।"

যন্তর মন্তরে চলা আন্দোলন এবং এসআরএফটিআই-তে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। নেহার দাবি, “আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালিয়ে তাঁদের দমানো যাবে না। আন্দোলনকারীরা মার খেলেও পিছিয়ে যাবেন না।” এরপরই বামপন্থার ভূমিকা নিয়ে সুর চড়ান নেহা। তাঁর বক্তব্য, “যেখানে জুলুম ও হিংসা হবে, সেখানেই বামপন্থীরা প্রতিবাদ করবেন। দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাতেও তার প্রতিবাদ হবে, আবার কলকাতায় হিংসা হলে বামপন্থীরা সেখানে পৌঁছে যাবে।”


কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন এসএফআই নেতা সৃজন ভট্টাচার্যও। কথা বলার অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় একদিকে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেও পার পাওয়া যায়, অন্যদিকে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই জেলে যেতে হয়। শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও সরব হন সৃজন। পাঠ্যক্রমে বিভিন্ন বিষয় কীভাবে অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “ পাঠ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আফ্রিকা কবিতা বাদ দিয়ে কীভাবে যোগ করা হল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবনী?”