ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) কাজে মাঠে নামার আগে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বুথ স্তরের আধিকারিকদের (BLO) একাংশ। নির্বাচন কমিশনের (Election Commisssion) নির্দেশ অনুযায়ী, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা (Voter List) যাচাই করে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের (Voter) নাম ফের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি নতুন যোগ্য ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার কাজ করতে হবে বিএলওদের। এই কাজের সময় তাঁদের উপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে দাবি করেছে ভোটকর্মী ও বিএলও ঐক্যমঞ্চ। সংগঠনের তরফে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) নীলম মিনাকে চিঠি দিয়ে বিএলওদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ-অপসারণের আর্জি মামলায় কমিশনকে সুপ্রিম নোটিশ, সাসপেন্ডের আবেদন খারিজ

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুরনো এবং সংশোধিত ভোটার তালিকা মিলিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে যোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করে ফের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন করে যোগ্য হওয়া ভোটারদের নামও তালিকাভুক্ত করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গেও সেই কাজের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতেই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে বিএলওদের সংগঠন। সংগঠনের সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাওয়ার সিদ্ধান্ত বিএলওরা নেননি। অথচ অতীতে নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁদেরই একাংশকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছে। এবার বাদ পড়া ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফের নাম অন্তর্ভুক্তির কাজ করতে গেলে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। চিঠিতে রাজ্যের আটটি জেলার কিছু স্পর্শকাতর এলাকার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠন। সেই তালিকায় রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলির কিছু এলাকা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং কলকাতার একাংশ। সংগঠনের দাবি, এই সব এলাকায় ভোটার তালিকা থেকে বেশি সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন মাঠে কাজ করা বিএলওরা।

স্বপন মণ্ডলের বক্তব্য, “ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার ঘটনায় বিএলওদের কোনও ভূমিকা ছিল না। কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কেন্দ্রে তাঁদের পড়তে হতে পারে। তাই আগেভাগেই নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য নির্বাচন দফতরের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।” সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, বিশেষ করে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছিল, তাঁদের মধ্যে বহু মানুষ এখনও বৈধ ভোটার বলে তাঁরা মনে করেন।

স্বপনের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ার সময় সংগঠনের পক্ষ থেকে এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরেও আনা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে বাদ পড়েছিল এবং তাঁদের মধ্যে ১৮-১৯ লক্ষ ভোটার বৈধ হতে পারেন। এবার এই বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের নাম ফের ভোটার তালিকায় তোলাই এখন কমিশনের নির্দেশিত প্রক্রিয়ার অন্যতম লক্ষ্য। সেই কাজ করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সেটিই সংগঠনের মূল দাবি। তবে এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে মেলেনি কোন প্রতিক্রিয়া।