মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (Chief Election Commission) পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) অপসারণের আর্জি জানিয়ে দায়ের হওয়া মামলায় নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। তবে, এই মুহূর্তে জ্ঞানেশকে সাসপেন্ড করার আবেদন খারিজ করেছে শীর্ষ আদালত। সোমবার, শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, “নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত হতে হবে হয় সর্বসম্মত, নয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মত অনুযায়ী”। কমিশনের সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার উপর নেওয়া হয়েছিল কি না? সে বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে জ্ঞানেশ কুমার ও বাকি ২ দুই নির্বাচন কমিশনারকে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের কাছে নোটিশ জারি করে অভিযোগের বিষয়ে জবাব চেয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। মামলাটির সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর খবর অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন কীভাবে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন ছাড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবেদনকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশীর সম্মতি ছাড়াই ভোটার তালিকা, ভোটার নিবন্ধন এবং কমিশনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একটি সংবাদ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দাবি করা হয়েছে, প্রায় ১০ মাসে অন্তত ১৪টি বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। সেই প্রক্রিয়াকে চ্য়ালেঞ্জ জানিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। পাটনার বাসিন্দা রাকেশ কুমার সিং-এর দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলায় দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়ে আইনজীবী বিকাশ সিং বলেন, একাধিক নির্বাচন কমিশনার রাখার উদ্দেশ্যই হল, যাতে সব সিদ্ধান্ত ঐক্যমত্য়ের ভিত্তিতে বা সংখ্য়াগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কাজ করেছে, তাতে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। যদি সিদ্ধান্ত ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে না হয়ে থাকে, তাহলে তা গুরুতর বিষয়।
তবে নির্বাচন কমিশন এই অভিযোগের ব্যাখ্যায় জানিয়েছে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশ্ন, মতামত বা পরামর্শ দেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। সেগুলিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক মতবিরোধ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। SIR সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছিল বলেও কমিশনের বক্তব্য।
আরও পড়ুন: শুধু সিসিটিভি বসালেই হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার নির্দেশ হাইকোর্টের
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরাসরি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। আদালতের মতে, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি আইন মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করার জন্য প্রথমে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে প্রামাণ্য তথ্য প্রয়োজন।
আদালত জানিয়েছে, তদন্তের পর যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় সর্বসম্মতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল বা স্থগিত করার বিষয়টি আদালত বিবেচনা করতে পারে।
আবেদনকারীদের তরফে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড আবেদন জানানো হয়েছিল। কিন্তু আদালত প্রশ্ন তোলে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সাসপেন্ড করা হলে নির্বাচন কমিশনের কাজ কীভাবে চলবে। এই পর্যায়ে আদালত তাৎক্ষণিক কোনও অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা না নিয়ে আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য শুনতেই অগ্রাধিকার দিয়েছে।
এই যুক্তিতে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার দাবি মঞ্জুর হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং SIR-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলি আইনসঙ্গত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মামলাটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।















