পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কি পরাজয়ের আশঙ্কা করছে বিজেপি? তা না হলে বিপুল ভোটে বাংলায় সরকার গড়ার পাঁচ মাসের মাথায় এক কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বারবার গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর প্রচারের পরও ভোট গ্রহণের আগের রাতে বাইক বাহিনীর তাণ্ডব কেন? তাহলে কি ভোটে হারার ভয় পাচ্ছে বিজেপি?
সোমবার পেরিয়ে রাত তখন ১টা। নির্বাচন শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে রাতভর নন্দীগ্রামের রামচক, গোপালচক, বলরামপুর, বয়াল ২-এ বিজেপি'র বাইক বাহিনীর তাণ্ডব চলল। এখানে তৃণমূলের প্রার্থীকে জোর করে নাম প্রত্যাহার করিয়েছে বিজেপি।কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে (Milan Pradhan) তাই সমর্থন জানিয়েছে তৃণমূল। এখন সেই কংগ্রেসের কাছে হারের ভয়ে তাঁর নামে স্লোগান দিয়ে বাড়িতে বাড়িতে বাড়িতে ভয় দেখানো চলছে।
কংগ্রেস ও তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মহিলাদের গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে, যাতে তাঁরা মঙ্গলবার ভোট না দিতে যায়। কোথাও কোথাও আবার পুলিশ দিয়েও ভয় দেখানো হচ্ছে। রাত বিরেতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ হুমকি দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ। একাধিক ভিডিওতে ধরা পড়েছে বিজেপির বাইক বাহিনী ও পুলিশের এই তান্ডবের দৃশ্য (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা হয়নি)।
তৃণমূল কংগ্রেসের আইটি সেলের ফেসবুক পেজে বিজেপির বাইক বাহিনীর তাণ্ডবের ভিডিও দিয়ে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে কমিশনকে। তৃণমূল আইটি সেলের প্রশ্ন, ভ্যানিশ কুমারের নির্বাচন কমিশন এখন নিশ্চুপ কেন? কোথায় গেল কেন্দ্রীয় বাহিনী? পুলিশ আর কবে পদক্ষেপ নেবে, আমরা জানতে চাই ! নাকি পুলিশ শুধু সাধারণ ভোটারদের চমকাতেই থাকবে?
সামান্য উপনির্বাচনে যেখানে বিজেপির কম্পমান অবস্থা, তার থেকে এটা স্পষ্ট যে মানুষের ভোটে আস্থা নেই পদ্মদলের। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কেন্দ্রে জিততে বাইক ও লেঠেল বাহিনীকে নামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় এটাই প্রমাণিত যে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে জনাদেশ নয় বরং জোর করে জয় আদায় করেছে বিজেপি, তেমনটাই দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের।














