খড়্গপুর পুরসভাকে (Kharagpur Municipality) ঘিরে উত্তেজনা। প্রাক্তন পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে সোমবার চেয়ারম্যান (Chairman) নির্বাচন ঘিরে সরগরম পুরসভা চত্বর। পুরসভার গেটে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি (BJP)। বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ঘটনায় পুরসভার সামনের রাস্তায় যান চলাচলও ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
আরও পড়ুন: জলাশয় সংস্কারের উদ্যোগ, কুঁদঘাটে দুই সরোবরের নামকরণ মুখ্যমন্ত্রীর
বিজেপির অভিযোগ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে পুরসভার চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না। এই দাবিতেই পুরসভার গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। অন্যদিকে, পুরসভায় ঢোকার সময় তৃণমূল কাউন্সিলরদের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা ছড়ায়। এই ঘটনায় খড়গপুর টাউন থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তৃণমূল কাউন্সিলররা।
উল্লেখ্য, খড়্গপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কল্যাণী ঘোষের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিলেন প্রদীপ সরকার-সহ ২৪ জন কাউন্সিলর। নাগরিক পরিষেবায় পুরপ্রধানের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে আনা হয় অনাস্থা। সংখ্যাগরিষ্ঠ পুরপ্রতিনিধির অনাস্থা সমর্থনে পুরপ্রধান পদে অপসারিত হন কল্যাণী। এরপর হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। এরমাঝেই সোমবার খড়্গপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন।
তা ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি খড়্গপুরে। একসময় এই পুরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক প্রদীপ সরকার। পরে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁকে সরিয়ে কল্যাণী ঘোষকে চেয়ারম্যান করে তৃণমূল কংগ্রেস। ৩৫ আসনের খড়গপুর পুরসভায় তৃণমূলের (TMC) দখলে ছিল ২৪টি ওয়ার্ড। বিজেপির হাতে রয়েছে ৬টি, কংগ্রেসের ৪টি এবং সিপিএমের ১টি ওয়ার্ড। চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই পুরসভা চত্বরে এই উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।















